সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছাত্রছাত্রীদের সমবেত আবেদনে সাড়া না দিয়ে পারলেন না সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। মহারাষ্ট্রের আরে বনাঞ্চলে আর কোনও গাছ কাটা যাবে না বলে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত। সোমবার দিনের প্রথমার্ধ্বে আরে বনাঞ্চল নিয়ে শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে মহারাষ্ট্র সরকার এবং প্রতিবাদী – দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতিরা মামলাটি পরিবেশ বেঞ্চের অধীনে পাঠিয়ে দেন। ততদিন পর্যন্ত আর একটি গাছও কাটা যাবে না বলে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
[ আরও পড়ুন: চাঁদের ছবি পাঠাল চন্দ্রযানের অরবিটার, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য ]
মুম্বই মেট্রোর শেড তৈরির জন্য কাটা পড়ছে একটি গোটা বনাঞ্চল। তা জানার পর থেকেই বিরোধিতায় সরব বিভিন্ন মহল। রবিবার দিল্লিতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বাড়ি গিয়ে তাঁকে এবিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়ে আসে একদল পড়ুয়া। তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতি আজই শুনানির দিন ঠিক করেন। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চে এদিন সওয়াল-জবাবের সময় মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ‘কাজের জন্য যে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ কাটার প্রয়োজন ছিল, তা কাটা হয়ে গিয়েছে। আর নতুন করে গাছ কাটার প্রয়োজন পড়বে না।’ যদিও তাঁর এই বক্তব্যে বিশেষ সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি অরুণ মিশ্র। তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, ‘কতগুলি চারাগাছ লাগানো হয়েছিল? তারা কতটা বেড়ে উঠেছে? এই মুহূর্তে জঙ্গলের কী অবস্থা?’ উত্তরে মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে তুষার মেহতা জানান, ‘দু বছর আগে ২০,৯০০টি গাছ লাগানো হয়েছিল। তার ৯৫ শতাংশই সুন্দরভাবে বেড়ে উঠেছে।’ এরপরই বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন যে পরিবেশ আদালতে মামলাটি ওঠার আগে পর্যন্ত আর একটি গাছও কাটা যাবে না। পরিবেশ আদালত এভাবে গাছ কাটা বৈধ কি না, সে বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাটা যাবে না কিছু।
[ আরও পড়ুন: মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত সমাধানে উদ্যোগী বনদপ্তর, চালু ২৪ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম]
মেট্রোর শেড তৈরির জন্য গোরেগাঁওয়ের আরে বনাঞ্চল কাটা পড়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলিউড সেলিব্রিটিরাও। করণ জোহর থেকে ফারহান আখতার, মাধুরী দীক্ষিতরা টুইটারে সরব হয়েছেন। কিন্তু সেসবে কাজ হয়নি। রবিবার ছাত্রছাত্রীরা প্রধান বিচারপতিকে আবেদন জানানোর পরই তার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে শীর্ষ আদালত।