সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্ষমা চাইলেন বরিস জনসন। এত চেষ্টা করলেন, তবু ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে আনতে পারলেন না নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। তাই এবার দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করে, ক্ষমা চাইলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘এটা খুবই আক্ষেপের বিষয়। যে কেউ আমাদের চুক্তিটা দেখলেই বুঝবেন যে এটা কতটা ভাল।’
৩১ অক্টোবর ছিল ব্রেক্সিটের নির্ধারিত সময়। তার মধ্যেই ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হত। কিন্তু ব্রিটিশ সংসদে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট পাশ করাতে পারেননি বরিস জনসন। ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় আরও তিন মাস সময় নেওয়া হয়। ফের দিন ঠিক হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু এরই মাঝে ব্রেক্সিট পাশ করাতে ব্যর্থ হওয়ায় জনসনকে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। ব্রেক্সিট পার্টির নেতা তথা ইংল্যান্ড পার্লামেন্টের সদস্য নাইজেল ফারাজ ভোটে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোয় জনসনের উপর চাপ বেড়েছে। ফারাজকে সমর্থন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্রেক্সিট হলে ব্রিটেন-আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্কে প্রভাব পড়বে। উভয়ের সম্পর্ক অবনতির দিকে যাবে।
[আরও পড়ুন: ‘ভারতে বিনিয়োগের এটাই সেরা সময়’, ব্যাংককের সম্মেলনে আবেদন মোদির]
ট্রাম্পের এই মন্তব্য একেবারে বরিস জনসনের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়েছে। একথা শোনামাত্রই কার্যত তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন। তবে রাষ্ট্রনায়কসুলভ সৌজন্য বজায় রেখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কারও মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করতে চাই না, কিন্তু কেউ কেউ এ নিয়ে ভুল বুঝছেন।’ আবারও তিনি এর জন্য দায়ী করেছেন ব্রিটেনের পার্লামেন্টকে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে ফের আগামী মাসের ১২ তারিখ ভোটাভুটি রয়েছে।
[আরও পড়ুন: মালির সেনা ক্যাম্পে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা, মৃত কমপক্ষে ৫৪]
এদিকে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বিরোধী অভিযানে আরও শান দিয়েছেন নাইজেল ফারাজ। আগামী মাসে সংসদীয় নির্বাচনে লড়াই থেকে সরে তিনি প্রচারে মন দিয়েছেন। এর আগে যদিও সাতবার ব্রিটিশ সংসদের সদস্য হওয়ার জন্য ভোট লড়েও ব্যর্থ হয়েছেন ফারাজ। তাই এবার আর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে বাকি ৬০০ জনের হয়ে গোটা দেশে প্রচার করবেন বলে ঠিক করেছেন।জনসনের চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের তীব্র সমালোচনায় তিনি সর্বত্র প্রচার করছেন এই বলে যে বরিসের চুক্তি ব্রেক্সিটের অংশই নয়। ফলে ২০১৬ সাল থেকে যে ব্রেক্সিট কাঁটায় জর্জরিত ব্রিটেন, তা তিন বছরেও উপড়ে ফেলা গেল না। এ নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত, ক্ষুব্ধ ব্রিটিশরা।