সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গণ আন্দোলনের মাঝেই হংকংয়ে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ভোটে শামিল দেশবাসী। এবং তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ততায় রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়ল বলে জানা গিয়েছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন সূত্রে। রবিবার, ছুটির দিনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশের প্রায় অর্ধেক জনতা। দুপুর পর্যন্ত ভোটদানের হার ৪২ শতাংশের বেশি। দেশের গণতন্ত্রের দাবিতে প্রবল আন্দোলনের মাঝেও এদিনের ভোটে কোনও অশান্তির খবর নেই। এই ভোট হংকংয়ের চিনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যামের ভবিষ্যৎ নির্ধারক হতে চলেছে।
দেশজুড়ে প্রায় ৪০০ জনেরও বেশি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন এই ভোটের মাধ্যমে। ৪৫২ টি আসনের লড়াইয়ে প্রার্থী সংখ্যা হাজার খানেক। এর মধ্যে ২৭টি গ্রামাঞ্চলের। বর্তমানে এসব প্রতিনিধিদের বেশিরভাগই চিনপন্থী। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যাঁরা নেমেছেন, তাঁদের আশা, এই প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। অন্যদিকে চিনপন্থীদর বার্তা, ইদানিং আন্দোলনের জেরে যেভাবে গোটা হংকংয়ের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে, তাতে এই ভোটের মাধ্যমে সঠিক জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করলে, সেই অশান্তি থেমে যেতে পারে।
[আরও পড়ুন: কর্তারপুরের মাধ্যমে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা ইমরান সরকারের, অভিযোগ পাক মানবাধিকার কর্মীর]
ভোটের দিন যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তার জন্য সর্বত্র বাড়তি পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে তাঁদের বিশেষ কাজ করতে হয়নি। সকলে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিয়েছেন। এই আবহে খুশি চিনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে যে সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে দেশ, তাতে ভোটের দিন এমন শান্ত পরিবেশ দেখে আমি খুশি।’ ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। তারপর শুরু হবে গণনা। মাঝরাতেই ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বেশ কয়েকমাস ধরে হংকংয়ে চিনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যামের বিরুদ্ধে চলছে গণ আন্দোলন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের আঁচ। পাল্লা দিয়ে পুলিশের দমনপীড়নও বেড়েছে। তারই মধ্যে এদিন ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।