সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সাহসিনী তো তিনি বটেই! এমনকী, দুঃসাহসিনী বললেও খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না।
আসলে, সৌদি আরবের মতো এক রক্ষণশীল দেশ, যেখানে মহিলাদের আপাদমস্তক হিজাব-নকাব-বুরখায় ঢেকে থাকার কথা, সেখানেই মাঝরাস্তায় হিজাব ছাড়া পাশ্চাত্য পোশাকে ছবি তুলে হইচই ফেলে দিয়েছেন এই বছর কুড়ির তরুণী। ফলাফল? সেটা যদিও খুব একটা সুখকর কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার পরেই নীতি-পুলিশের নজরদারিতে পড়া এবং সটান হাজতবাস!
রিয়াধের পুলিশকর্মী ফওয়াজ-অল-ময়মন যদিও তাঁর বিবৃতিতে ওই তরুণীর নাম জানাতে চাননি। তার পরেও স্রেফ ছবি সার্চ করে উদ্ধার করা গিয়েছে ওই তরুণীর নাম। তিনি মালেক-অল-শাহরি। আইন লঙ্গনের অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রিয়াধ পুলিশ।
ময়মন জানিয়েছেন, ওই তরুণী রিয়াধের মাঝরাস্তায় হিজাব খুলে ফেলে এক বিরল অপরাধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সৌদি আরবের আইন তা সমর্থন করে না। ফলে আইন লঙ্ঘন এবং জনতার ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া- দুই অপরাধেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। শাহরির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে আধুনিক জীবনযাপনেরও অভিযোগ। “ওই তরুণী প্রকাশ্যেই একাধিক পুরুষের সঙ্গে তাঁর যৌনসম্পর্কের কথা বলে থাকেন। সৌদি দেশের আইন অনুযায়ী যা দণ্ডনীয় অপরাধ”, বক্তব্য ময়মনের।
রক্ষণশীল দেশের এভাবে নাগরিকদের গ্রেফতার করা মুক্তমনাদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হলেও রিয়াধ কিন্তু গোটা ব্যাপারটায় ভুল কিছু দেখতে পাচ্ছে না। সেটা অস্বাভাবিক কিছুও নয়। যে দেশে মহিলাদের গাড়ি চালানোরও অনুমতি নেই, সেখানে এমনটা ঘটা কি খুব নজিরবিহীন?