স্টাফ রিপোর্টার: দাম নয়। ঝাঁজেই হার মেনেছে মধ্যবিত্তর হেঁশেল। পিঁয়াজের বাজার আগুন। সেই দাবানলে জল ছেটাতে এবার কোমর বাঁধল রাজ্য খাদ্য দপ্তর। হাতিয়ার গণবণ্টন ব্যবস্থা। সোজা কথায়, রেশন। হ্যাঁ। পিঁয়াজের দামের ঝাঁজ থেকে মানুষকে রেহাই দিতে চাল, গম, চিনির সঙ্গে পিঁয়াজও বিক্রি করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী সপ্তাহেই আপাতত উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার রেশন দোকানগুলিতে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু হচ্ছে। ক্রমে রাজ্যের সর্বত্র এই সুবিধা মিলবে বলে খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর।
কিন্তু রেশন তো এখন শুধু গরিব মানুষের জন্য। শহুরে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এতে কতটা উপকৃত হবেন? বিষয়টি মেনে নিলেও আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, কম সংখ্যক কিছু লোকও ন্যায্যমূল্যে পিঁয়াজ কিনতে পারলে বাজারমূল্য কিছুটা কমবে। পরে জেলায় জেলায় রেশনে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু হলে চাহিদা-জোগানের ফারাকে আরও লাগাম পরতে বাধ্য। তখন অর্থনীতির নিয়ম মেনেই পিঁয়াজমূল্যের রকেটগতি শ্লথ হবে।
[আরও পড়ুন: আগুন বাজার, পিঁয়াজের সঙ্গে দামে টক্কর দিচ্ছে সবজিও]
সাত দিন আগে সেঞ্চুরি পার করেছে পিঁয়াজের দাম। দামে লাগাম পরাতে কয়েকদিন ধরে সুফল বাংলার স্টল থেকেও ৫৯ টাকা কেজি দরে পিঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার সাধারণের আরও নাগালের মধ্যে আনতে রেশন দোকান থেকে বিক্রি হবে মহার্ঘ্য পিঁয়াজ। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার প্রায় ন’শোটি রেশন দোকান থেকে সুবিধাজনক দামে পিঁয়াজ বিক্রি হবে। গণবণ্টন দপ্তর কৃষি বিপণন দপ্তর থেকে পিঁয়াজ কিনবে। দপ্তর সূত্রে খবর, যতদিন না পিঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন এই পদক্ষেপ চালু থাকবে। বরং কলকাতার চৌহদ্দি ছাড়িয়ে রাজ্যের সব রেশন দোকানে যাতে সুবিধাজনক দামে পিঁয়াজ বিক্রি সম্ভব হয় তার ব্যবস্থা করা হবে। গণবণ্টন দপ্তরের প্রধান সচিব মনোজ আগরওয়াল বলেছেন, “প্রথম দফায় উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার প্রায় ৯৩৪টি রেশন দোকান থেকে সুবিধাজনক দামে পিঁয়াজ বিক্রি হবে।”