সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ব্রিটিশ তরুণী হোলি হর্নের নাম শুনেছেন? না শোনা অস্বাভাবিক নয়। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বা কিম কার্দাশিয়ানের মতো সর্বজনবিদিত তিনি নন। কিন্তু যাদের টিকটকের দুনিয়ায় নিত্য যাতায়াত, তারা এই নামটির সঙ্গে বিলক্ষণ পরিচিত। এই তরুণী একজন টিকটক স্টার। শুধু স্টার বললে ভুল হবে। ইনি সুপারস্টার। কারণ এই খ্যাতির বিড়ম্বনায় বছর তেইশের এই তরুণীকে রাখতে হয়েছে দেহরক্ষী।
চাকরি খুঁজতে এখন কালঘাম ছোটে তরুণ তরুণীদের। ঝুড়ি ঝুড়ি ডিগ্রি নিয়েও কলকে পাওয়া যায় না। অতিকষ্টে চাকরি যাও বা জোটে, পারিশ্রমিক হয় যৎসামান্যই। কিন্তু নেই মামার থেকে কানা মামা তো ভাল। তাই সেই ন্যূনতম পারিশ্রমিকের চাকরিতেই খুশি থাকে তারা। কিন্তু হোলি হর্নের জীবনে এসব কোনও সমস্যাই নয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁকে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতে হয় না। তাঁর কাজের সময় মাত্র ১৫ সেকেন্ড। তবে তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হয় প্রচুর। সেজেগুজে টিকটক ভিডিও শুট করেন তিনি। আর তারপর সেটি ছেড়ে দেন সোশ্যাল সাইটে। তাঁর সাজেরও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গ্লসি পাউটেড ঠোঁট, বাদামি চোখ আর ম্যনিকিয়োর করা রঞ্জিত নখ তাঁর ট্রেডমার্ক।
[ আরও পড়ুন: হেলমেট পরলেই পিঁয়াজ ফ্রি, পথ নিরাপত্তায় অভিনব উদ্যোগ ]

ইন্টারনেটে হোলি হর্নের জনপ্রিয়তা মানে- ‘sky is the limit’। তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা প্রায় ছ’লক্ষ। গত বছর টিকটকে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন হর্ন, যার ভিউয়ার্স ৭ কোটি ৭২ লক্ষেরও বেশি। টিকটকে হর্নের প্রচুর ভিডিও রয়েছে তার মধ্যে কোনওটিতে দেখা গিয়েছে পপ গানে লিপ দিচ্ছেন হর্ন। কোথাও আবার তাঁর নাচ মন কেড়েছে দর্শকের।
এক শ্রেণির মানুষের কাছে টিকটক মানে ছেলেমানুষি। কিন্তু সেই দলে পড়েন না হর্ন। মন দিয়ে তিনি কাজটি করে যান। আর তাতেই বাজিমাত। একাগ্র চিত্তে কাজ করার ফলে জনপ্রিয়তাও দিন দিন বাড়ছে তাঁর। ব্রিটেনের সীমা ছাড়িয়ে তাই তাঁর জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বজুড়ে।
এমন একজন সুপারস্টার তারকাকে তাই ঢালাও পারিশ্রমিক দেয় টিকটক। ব্রিটেনের একাধিক ব্র্যান্ড তাঁর সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। বিজ্ঞাপনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে হর্ন। প্রতি মাসে তাঁর আয় ছুঁয়েছে ছয় অঙ্ক। মেয়ের আয়ের দিকে তাকিয়ে চাকরি ছেড়েছেন মা। হর্নের জীবনযাপনেও এসেছে পরিবর্তন। মধ্যবিত্তের মেয়ে হর্ন এখন বড়লোকেদের মধ্যে গণ্য হন। পৈত্রিক ভিটে ছেড়ে এখন তিনি ওয়েস্ট সাসেক্সের এক অভিজাত পল্লির বাসিন্দা। জনপ্রিয়তা তাঁর এতটাই যে নিরাপত্তার জন্য হোলি হর্নকে রাখতে হয়েছে দেহরক্ষী।