অর্ণব আইচ: হেদুয়া এবং কলেজ স্কোয়্যারের পর এবার রবীন্দ্র সরোবর। সাঁতার কাটতে নেমে লেকে ডুবে প্রাণ হারালেন ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। দীর্ঘক্ষণ তাঁর খোঁজ চালানোর পর অবশেষে দেহ উদ্ধার করে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ সাঁতার কাটতে লেকে পৌঁছেছিলেন সত্যব্রত সেন। গড়িয়াহাটের ডোভার টেরেসের বাসিন্দা অ্যান্ডারসন ক্লাবের সদস্য। বছরের এই সময়টায় শহরের প্রায় সব ক্লাবেই সাঁতার বন্ধ থাকে। শুধুমাত্র অ্যান্ডারসন ক্লাবের সদস্যেরই এখন সাঁতারের অনুমতি ছিল। সেই মতোই অন্যান্য সদস্যদের ন্যায় এদিন সকালে রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার কাটতে নামেন তিনি। সত্যব্রতবাবুর গাড়ির চালক জানান, সাড়ে ৯টা নাগাদ অ্যান্ডারসন ক্লাবের ভিতর গিয়েছিলেন সত্যব্রত সেন। কিন্তু বেলা ১২টা বেজে গেলেও ফেরেন না। তখন তিনি ভিতরে এসে খোঁজ করেন। দেখা যায়, ক্লাবের চেঞ্জিং রুমে বৃদ্ধের পোশাক পড়ে রয়েছে। এরপরই লেকে তল্লাশি শুরু করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর দেওয়া হয় রবীন্দ্র সরোবর থানায়। সেখান থেকেই ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টার পর সত্যব্রতবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার করে তারা। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ।
[আরও পড়ুন: তৃণমূলের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব? কলকাতায় মতুয়াদের বিক্ষোভে নেই সংঘাধিপতি নিজেই]
এর আগে হেদুয়া এবং কলেজ স্কোয়্যারের মতো নামী লেকে সাঁতারুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এবার রবীন্দ্র সরোবরও একই ঘটনার সাক্ষী হল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সাঁতার কাটার পরই অসুস্থ বোধ করছিলেন সত্যব্রত সেন। তারপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ডুবে যান তিনি। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত লেকে সমস্ত সদস্যের সাঁতার বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের ইতিমধ্যেই মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে। আর পাঁচটা দিনের মতোই এদিনও সকালে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন বাড়ির কর্তা। কিন্তু এদিন আর ফিরলেন না। গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত ও শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার।