সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুলিশের রিভলবার ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নেতা-সহ ১৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত ১৫ ডিসেম্বর ছাত্র নেতাদের নেতৃত্বে মোমবাতি মিছিল করা হচ্ছিল। পুলিশ সেই মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে। সেইসময় এক ইন্সপেক্টরের কাছ থেকে রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষে নাইন এমএমের পাঁচটি কার্তুজ লুঠ করে আন্দোলনকারীরা। তারপরই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল সংসদে ওঠার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই সেই বিল আইনে পরিণত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতিবাদের ঝাঁজও। পড়ুয়া থেকে বর্ষীয়ান নাগরিক, খেটে খাওয়া মজদুর থেকে রূপালি পর্দার তারকা-একসঙ্গে সকলে পথে নেমেছেন। বির্তকিত আইন প্রত্যাহারে দাবিতে গলা মিলিয়েছেন সকলেই। তবে সেই প্রতিবাদী স্বর রোধ করতে পুলিশ-প্রশাসনও আগ্রাসী হয়েছে বলে অভিযোগ। আন্দোলনে নেমে গোটা দেশে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৬জন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আক্রান্ত হয়েছে পড়ুয়ারাও। তাও প্রতিবাদ চলছে। বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, ধর্মের উপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদের চেষ্টা চলছে। দেশের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক চরিত্র বদলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
[আরও পড়ুন : পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত! কাশ্মীর থেকে ৭ হাজার সেনা প্রত্যাহার করল কেন্দ্র]
এই পরিস্থিতিতে ১৫ ডিসেম্বর আগ্রায় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকে CAA বিরোধী স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। মিছিল আটকাতেই পুলিশের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায় তাঁদের। কথা কাটাকাটি চরমে ওঠে। এমনকী পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথও ছোঁড়ে তাঁরা। দায়ের করা এফআইআর-এ সাব ইন্সপেক্টর নিজামুদ্দিন জানান, “ছাত্রদের হস্টেলে ফিরে যেতে বলেছিলাম। তখনই ওরা আমাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পুলিশ আধিকারিকের হাত থেকে রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। যদিও সেই কাজে তারা সফল হয়নি। পরে কার্তুজ নিয়ে চম্পট দেয় তারা।” এরপরই একাধিক ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ।এদের মধ্যে ৫২ জনকে পুলিশ ইতিমধ্যে শনাক্তও করেছে।