সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেরলের জেহাদিদের হাতে অর্থ আসছে দুবাই, তুরস্ক থেকে। এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। একাধিক জেহাদি সংগঠনের সদস্যরা সেই আর্থিক সাহায্যের জন্য সেপ্টেম্বর ৯ থেকে ১৯ পর্যন্ত দুবাই গিয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য নিয়ে এসেছে তারা।
ভারতে ইসলামিক জেহাদ ছড়িয়ে দিতে, ইসলামের জন্য আগ্রাসী প্রচার চালাতে, ধর্মান্তরকরণ চালাতে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে কেরলের জেহাদি সংগঠনগুলির। এখানেই শেষ নয় ১ অক্টোবর কেরলের জেহাদি সংগঠনের এক সদস্য কাতারে গিয়ে তুরস্কের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেছে। সেখান থেকে তারা জেহাদি সংগঠনগুলিকে চালানোর জন্য আরও আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।
গোয়েন্দারা এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। গোয়েন্দাদের কাছে এর বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গোয়েন্দাদের কাছে জানতে চেয়েছে কোন কোন জিহাদি সংগঠন আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে। কত তার পরিমাণ এবং কোন কোন দেশ থেকে এই আর্থিক সাহায্য আসছে। গত কয়েক মাস ধরেই কেরলের জেহাদি সংগঠনগুলির উপর নজরদারি চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই নিয়ে একাধিকবার কেরলে অভিযানও চালিয়েছে তারা। গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (পিএফআই), ইন্ডিয়ান মুসলিম লিগ সহ চার-পাঁচটি সংগঠনের কাজকর্ম।
[আরও পড়ুন: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আমিরশাহিতে জঙ্গি পাচার করছে কেরলের জেহাদিরা!]
উল্লেখ্য, দেশের দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে বেড়েছে ইসলামিক স্টেটের উপস্থিতি৷ কয়েকদিন আগেই মার্কিন হানায় নিহত হয় ইসলামিক স্টেটের কেরল শাখার প্রধান রশিদ আবদুল্লাহ৷ আফগানিস্তানে আমেরিকার বোমারু বিমানের হামলায় ওই জঙ্গি ছাড়াও মৃত্যু হয়েছিল আরও পাঁচ ভারতীয় জেহাদির৷শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কেরল ছাড়াও তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও জম্মু-কাশ্মীরে ইসলামিক স্টেটের ছায়া পড়ছে। মোবাইল লোকেশনের ঝামেলা এড়াতে ‘টেলিগ্রাম’ নামের একটি মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে খবর আদানপ্রদান করছে জঙ্গিরা। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে শুধু কেরলেরই ১০০ জন বাসিন্দা ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়েছে। এদিকে, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর থেকেই কেরল উপকূলে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমুদ্রপথে জেহাদিদের প্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক উপকূলরক্ষী বাহিনী তথা নৌসেনাও।