সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে চলতে থাকা টালবাহানা, সাপোর্ট-বয়কট বিতর্কের মাঝেই মুক্তি পেল মেঘনা গুলজার পরিচালিত ‘ছপাক’। সেই সঙ্গে তুলে ধরল বর্তমানের জন্য প্রাসঙ্গিক বেশ কয়েকটা প্রশ্ন। আমাদের দেশে মেয়েদের সঙ্গে হওয়া ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনাগুলো যদিও বা আমরা গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরি। অপরাধীর প্রাণদণ্ড দাবি করি। অ্যাসিড অ্যাটাক কি তার চেয়ে কম গুরুতর অপরাধ? যে অ্যাসিড অ্যাটাকের বীভৎসতা সারাজীবন ধরে বয়ে বেড়াতে হয় কাউকে। ঢেকে রাখতে হয় ঝলসে যাওয়া চেহারা। কিন্তু এই গুরুতর অপরাধের শাস্তি কি শুধু ১০ বছরের জেল, আর কারি কারি টাকা জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? আর সেই জন্যই কি দেশে বছরের পর বছর এরকম অ্যাসিড হামলা বেড়ে চলেছে? সেই পরিসংখ্যান জানলে অবাক হবেন আপনিও।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য বলছে, অ্যাসিড হামলার শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নাম। আজ্ঞে! ২০১৮ সালে আমাদের রাজ্যের মেয়েরাই সবথেকে বেশি অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে দেশে ১২৬টির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই অ্যাসিড আক্রমণের ৫০টি ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ জন (এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী)।
[আরও পড়ুন: ‘হিন্দু-মুসলমান ভাগ করছি, বেশ করেছি’, ফের বেফাঁস মন্তব্য দিলীপ ঘোষের]
পশ্চিমবঙ্গের পরই রয়েছে যোগী আদিত্যনাথ শাসিত উত্তরপ্রদেশের নাম। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট বলছে, ২০১৮ সালে ৪০টি অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে যোগীর রাজ্যে। আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে অবশ্য উত্তরপ্রদেশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অবশ্য উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু অ্যাসিড হামলার দিক থেকেই নয়, এমনকী অ্যাসিড আক্রমণের চেষ্টার সংখ্যাতেও গোটা দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নাম। ২০১৮ সালে অর্থাৎ গত ১ বছরে বাংলায় অ্যাসিড হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে মোট ১২টি।
[আরও পড়ুন: কতটা বিপজ্জনক ছিল বিস্ফোরক, খতিয়ে দেখতে আজ নৈহাটিতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা]
শুধু যে অ্যাসিড আক্রমণ, তাই নয়, বরং খুনের চেষ্টা এবং বধূ-নির্যাতনের মামলাতেও প্রথম স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। ২০১৮ সালে এই রাজ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মহিলাকে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, বধূ-নির্যাতনের অভিযোগ জমা পড়েছে মোট ১৬,৯৫১টি। এক্ষেত্রেও অবশ্য বাংলার পরেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশের স্থান। একসময় মানব পাচারে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। যদিও ২০১৮ সালের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, সেই পরিসংখ্যান এখন অনেকটাই কম। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের দাবি, তথ্যে গরমিল থাকতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দিক থেকেও রিপোর্ট জমা দিতে পশ্চিমবঙ্গের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে অসহযোগিতা করার। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।