সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সীমান্তে কিছুতেই থামছে না পাকিস্তানের আগ্রাসন। গত নয় মাসে জম্মু অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর মোট ২ হাজার ৩৩৫ বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনা। সংসদে এমনটাই জানিয়েছে সরকার।
সোমবার রাজ্যসভায় দেওয়া লিখিত জবাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক জানান, ২০১৯ সালের ৩০ মে থেকে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত জম্মুর কাছে ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তে ২ হাজার ৩৩৫ বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লংঘন করেছে পাক সেনা।পাশাপাশি, ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জম্মুর কাছে ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তে ১৭৭ বার ক্রস বর্ডার ফায়ারিং হয়েছে। শহিদ হয়েছেন আটজন জওয়ান। এছাড়াও, নায়েক আর জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে সিয়াচেনে তুষারঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণ হরিয়ছেন ছ’জন জওয়ান। অন্যান্য পার্বত্য এলাকায় ২০১৯ সালে তুষার ধ্বসে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১১ সেনাকর্মী।
জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধার রদ হওয়ার পর থেকেই ক্রমে যুদ্ধের হুংকার দিচ্ছে পাকিস্তান।একাধিকবার আণবিক হামলার হুমকিও দিয়েছে সে দেশ। পালটা পড়শি দেশকে সংযত হওয়ার বার্তা দিয়েছে ভারত। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করলে ফল জে ভাল হবে না, তাও ইসলামাবাদকে সাফ বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। সদ্য, পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিতে সাত থেকে দশ দিন সময় লাগবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনসিসি ক্যাডেটদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কথাপ্রসঙ্গে পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। সেনাদিবসে ৩৭০ ধারা বিলোপ করাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন স্থলসেনা প্রধান মুকুন্দ নারাভানে। তাঁর মতে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের ছায়াযুদ্ধের কৌশল ভেস্তে গিয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার কাশ্মীর নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সেনাপ্রধান। জানিয়েছিলেন, ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরে হিংসাত্মক ঘটনা কমে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। এবার ফের একবার সেই বিষয়ে মত প্রকাশ করলেন তিনি। এদিন সন্ত্রাস নিয়ে মুখ খোলেন নয়া সেনাপ্রধান। তাঁর কথায়, “যে কোনও পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসের সঙ্গে আপোস করবে না ভারত। যে বা যারা সন্ত্রাসে মদত জোগাচ্ছে, তাদের শায়েস্তা করার একাধিক উপায় দেশের কাছে রয়েছে। প্রয়োজনমতো সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।”