সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানে ফের প্রকাশ্যে ভয়াবহ হিন্দু নির্যাতনের ছবি। সিন্ধ প্রদেশ থেকে এক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্মান্তকরণ ও বিয়ের মামলায় সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বৃহস্পতিবার আদালতে মেহেক কুমারি নামের ওই নাবালিকা জানিয়েছে, সে ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। এবং সে কাউকে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেনি। মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাতর আরজিও জানায় ওই নাবালিকা।
সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতার আইনজীবী নারায়ণদাস কাপুর জানান, জেকোবাবাদের দ্বিতীয় অতিরিক্ত বিচারক গুলাম আলি কানসারো নিজের চেম্বারে মেহেকের বয়ান রেকর্ড করেছেন। এদিন আদালতে প্রচুর মৌলবি ও ‘উগ্র ইসলামপন্থী’দের জমায়েত ছিল। ফলে নিরাপত্তার খাতিরে নিজের কক্ষে বয়ান রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বিচারক। তিনি আরও জানান, বিচারককে মেহেক জানিয়েছে, সে ইসলাম গ্রহণ করতে চায় না। সে কাউকে বিএও করেনি। সে নিজের মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চায়। আইনজীবী নারায়ণদাস কাপুর জানান, বয়ান দেওয়ার পর থেকেই লাগাতার হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সিন্ধ প্রদেশের জেকোবাবাদ শহর থেকে মেহেক কুমারি নামে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। আলি রাজা সোলাঙ্গি নামের এক ব্যক্তি তাকে জোর করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করে এবং বিয়েও করে। তারপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানান মেহেকের বাবা বিজয় কুমার। তিনি নিজের মেয়ের বয়স ১৫ বলে জানান। কয়েকদিন আগে মামলাটি অন্য একটি আদালতে উঠলে, মেহেককে মহিলা নিরাপত্তা সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তার প্রকৃত বয়স জানতে চান্দকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ডাক্তারি পরীক্ষা করার নির্দেশ ও দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে। তারপরই সামনে আসে এক ভিডিও। সেখানে সোলাঙ্গির পাশে বসে মেহেক বলছে, ‘আমি স্বেচ্ছায় মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং এখন আমার নাম আলিজা। আমি রাজা সোলাঙ্গিকে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি।’ যদিও এসব মেহেককে জোর করে বলানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।