সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নিন্দুকদের মিথ্যে প্রমাণ করতে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক, এরকম মন্তব্য প্রায়ই শোনা যায় বিজেপি নেতাদের কন্ঠে। শনিবার একটি সাক্ষাৎকারে জম্মু-কাশ্মীরের ৩ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বন্দিদশা থেকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানান, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই কাশ্মীরে আটক করে রাখা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের ৩ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। তাদের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক কাশ্মীরের জনজীবনে ফিরে এসে তাদেরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক বজায় রাখার আবেদন করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর থেকেই অশান্তি ছড়ানো ও উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে কাশ্মীরের রাজনীতিবিদদের আটক করে রাখা হয়। ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে আটক করে রাখা হয়। গত বছর ৫ আগস্ট কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হয়। এরপর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে কাশ্মীর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরই মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে জনসুরক্ষা আইনের(PSA) অধীনে সেপ্টেম্বর থেকেই বন্দি করে রাখা হয় ফারুক আবদুল্লাকে। খুব সম্প্রতী ওমর আবদুল্লা ও মেহেবুবা মুফতিকেও জনসুরক্ষা আইনের(PSA) আওতায় বন্দি করে রাখা হয়। একটি সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মোদি জানান, “কাশ্মীর শান্ত হয়ে উঠছে। দ্রুত উন্নতি হচ্ছে কাশ্মীরের পরিস্থিতির। এভাবেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে মুক্ত করে দেওয়া হবে আটক থাকা নেতাদের। সরকার আটক থাকা কোনও নেতাদের ওপর অত্যাচার চালায়নি।” তবে মেহবুবা ও ওমরের মুক্তির দাবিতে বারবার সোচ্চার হয়েছেন ওমরের বোন ও মেহবুবার মেয়ে। তাদের কথায় উঠে এসেছে মেহবুবা ও ওমরের বন্দিদশায় দিনযাপনের কষ্ট।

[আরও পড়ুন:হাল ছেড়ো না বন্ধু…, ‘মন কি বাত’-এ যুব সম্প্রদায়কে প্রেরণা জোগালেন মোদি]
সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে কাশ্মীরের স্বার্থেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাবি করেন। কাশ্মীরে সবাইকে যাওয়ার আমন্ত্রণও জানান তিনি। মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লার দ্রুত মুক্ত হওয়ার প্রার্থনা করেন রাজনাথ সিং। বন্দিদশা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কাশ্মীরের সার্বিক উন্নয়নে তারা অংশ নেবেন বলেও আশাবাদী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। গতমাসে আটক থাকা অবস্থায় ভাইরাল হয় ওমর আবদুল্লার একটি ছবি। যা দেখে তুঙ্গে ওঠে রাজনীতির পারদ। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কাশ্মীর নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন বিরোধীরা।