সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: পুরনির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক প্রচার কর্মসূচি নিয়ে নামছে গেরুয়া শিবির। তারই একটা ‘আগে মত, তারপর মতদান।’ অর্থাৎ জনতার ইস্তাহারেই পুরুলিয়ায় ভোট চাইছে বিজেপি। পুরুলিয়া পুরসভার দখল নিতে চেয়ে ‘মিশন ১২ প্লাস’ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। ‘আপনার রায়’ শিরোনামে একটি ফর্ম নিয়ে বাড়ি–বাড়ি যাবেন বিজেপি কর্মীরা। জনতাকে দিয়ে সেই ফর্ম পূরন করিয়ে গেরুয়া শিবির জানতে চাইবে, পুর পরিষেবায় আর কী কী প্রত্যাশা রয়েছে জনগণের। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোট চাইবেন নেতারা।
বৃহস্পতিবার শহর পুরুলিয়ার বিজেপি নেতা,কর্মীদের নিয়ে পুরুলিয়া শহরের হরিপদ সাহিত্য মন্দিরে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি। অনুষ্ঠানে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী, জেলার সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙা, শহর পুরুলিয়ার উত্তর মণ্ডলের সভাপতি বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ও দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারী। এদিন এই ‘মিশন ১২ প্লাস’ কর্মসূচির বিষয়ে জেলা বিজেপির তরফে জানানো, পুরুলিয়া পুরসভায় মোট ওয়ার্ড ২৩ টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা বোর্ড গঠনের জন্য ১২টি আসন দরকার। তাই বারোর বেশি আসনের জন্য লড়াইয়ের নামই ‘মিশন ১২ প্লাস’। এই কর্মসূচির প্রধান বিষয়, পুরভোটের মুখে জেলা বিজেপি দলীয় কোনও ইস্তাহার প্রকাশ করবে না। মানুষের চাহিদামতই সেই ইস্তাহার তৈরি হবে। তাই তাদের স্লোগান – ‘আগে মত, তারপর মতদান।’
[আরও পড়ুন: রাস্তায় চাপ চাপ রক্ত, পুকুরে উঁকি দিতেই মিলল নিখোঁজ যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ]
দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙা বলেন, “পুরবোর্ড পেয়ে আমরা কীভাবে কাজ করব, তা আমরা ভোটের আগেই আমজনতার কাছ থেকে মতামত চেয়ে তাদের দাবিমতো এগোব। ‘মিশন ১২ প্লাস’ কর্মসূচির এটাই বড় পদক্ষেপ। আসলে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।মানুষের কথা মেনে চলতে চাই। সেইভাবেই কাজ করার অঙ্গীকার করেছি। এই ‘আপনার রায়’–র ফর্মে নাম, ওয়ার্ড নম্বর, মোবাইল নম্বর ছাড়া মতামত বা দাবির জন্য পাঁচটি ঘর থাকছে। সেই ঘরগুলিতে ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তাঁদের এলাকার উন্নয়নে সুচিন্তিত মত বা দাবি জানাবেন।”
[আরও পড়ুন: পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নাম করে সিনেমার টোপ, ৫৫ হাজার টাকা হাতিয়ে চম্পট যুবক]
‘মিশন ১২ প্লাস’ কর্মসূচিকে সফল করতে সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। এই নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির তরফে। পুরুলিয়ার দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারীর কথায়, “এই মিশনকে সফল করতে আমরা যা কাজ করব, তা ওই ফেসবুক পেজে তুলে ধরা হবে। যাতে আমরা বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি সোশাল সাইটেও মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারি।”
ছবি: সুনীতা সিং।