সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের বামফ্রন্টের টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। সীতারাম ইয়েচুরি, মহম্মদ সেলিমের মতো হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে আলোচনা করার পর, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নামে সিলমোহর দিলে সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস নেতারাও বিকাশের নামে সম্মতি দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেবেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। রাজ্য বিধানসভায় আপাতত বাম ও কংগ্রেসের মিলিত শক্তি ৫২। সবকটি ভোট পেলে আরামেই জিতবেন বিকাশরঞ্জন। তাই সব ঠিক থাকলে বিকাশবাবুর সাংসদ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তাছাড়া কংগ্রেসেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে। অধিকাংশ কংগ্রেস বিধায়ক এবং কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ভাল সম্পর্কও রয়েছে। সেকথা মাথায় রেখেই বর্ষীয়ান এই আইনজীবীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম পলিটব্যুরো। উল্লেখ্য, আগেরবারও সিপিএমের তরফে রাজ্যসভার প্রার্থী হয়েছিলেন বিকাশ। কিন্তু, সময়মতো মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল হয়ে যায়। তারপর গত লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বামেদের প্রার্থী হন তিনি। সেবারে তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তীর কাছে বিরাট ব্যবধানে পরাস্ত হন বিকাশ।
[আরও পড়ুন: ‘নিরুদ্দেশ’ সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৭ বিধায়ক, নয়া সংকটে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার!]
শেষবার রাজ্যসভা নির্বাচনের সময়ও সিপিএম এবং কংগ্রেসের যৌথ প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেবারে কংগ্রেস সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে প্রার্থী করার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু, সিপিএমের নিয়মের গেরোয়া তা সম্ভব হয়নি। শেষপর্যন্ত আলাদা আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাম ও কংগ্রেস। কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভায় যান অভিষেক মনু সিংভি। এবারেও ফের সীতারাম ইয়েচুরিকে প্রার্থী করতে অনুরোধ করে কংগ্রেস। কিন্তু, এবারেও সিপিএমের নিয়মের গেরো এবং কেরল লবির আপত্তিতে সীতারামের (Sitaram Yechury) প্রার্থী হওয়া হল না। তাঁর পরিবর্তে বিকাশরঞ্জনের নামে সায় দেয় সিপিএম পলিটব্যুরো। বিকাশকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত সিপিএম নেতারা জানায় এআইসিসিকে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্য নেতাদের মত জানতে চাইলে তাঁরাও আপত্তি করেননি। ফলে, বিকাশের প্রার্থী হওয়া একপ্রকার চূড়ান্ত। শুধু সরকারি ঘোষণা বাকি।