সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ভিক্ষা করেই দিন চলে তাঁদের। তাই নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসারে লকডাউনের জেরে বন্ধ ভিক্ষা সংগ্রহের কাজও। বাস, ট্রেন বন্ধ থাকায় এখন ভরসা শুধু গৃহস্থের দরজা। কিন্তু বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই দরজায় কড়া নেড়েও নিরাশ হতে হচ্ছে তাদের। করোনার গ্রাসে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বাড়িতে ভিক্ষা নিতে আসা মানুষজনকেও যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাচ্ছেন গৃহস্থের কর্তা-গিন্নিরা। এমনকি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তাই দু’বেলা থালা ভরতি ভাত জুটছে না
এদের। এরা পুরুলিয়া এক নম্বর ব্লকের সিমনপুর গ্রামের একসময় কুষ্ঠ আক্রান্ত মানুষজন। তাই তাদের পাশে দাঁড়ালেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের বিচারকরা।
বৃহস্পতিবার একেবারে সকালে জেলা আদালতের একাধিক বিচারক ওই গ্রামে গিয়ে তাঁদের হাতে চাল, ডাল, আলু, নুন, সাবান তুলে দেন। এই ত্রাণ সামগ্রী ছাড়াও করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কীভাবে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে এদিন সে কথাও বোঝান তারা। বোঝান সামাজিক দূরত্বের কথা। বিচারক অনন্ত সিং মহাপাত্র, রিম্পা রায়, অরিত্র বোস, শেখ করিম বক্স নিজেদের হাত থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে এই চাল, ডালের প্যাকেট তুলে দেন। আরও মানুষজনকে এই বাসিন্দাদের প্রতি
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সেখান থেকেই বার্তা দেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, “সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।”
[আরও পড়ুন: করোনা নেগেটিভ সাত বছরের শিশু, তবুও মৃত্যুতেই একঘরে পুরো পরিবার]
এদিন বিচারকদের হাত থেকে ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে যেন কয়েকটা দিনের জন্য নিশ্চিন্ত বোধ করেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, “আমরা তো এই সমাজে সেইভাবে কাজ করতে পারিনা। তাই কোনভাবে ভিক্ষা করেই আমাদের সংসার চলে। কিন্তু এখন খুব সমস্যায় রয়েছি। তবে এই চাল-ডাল পেয়ে খুব ভাল লাগছে। গরম ভাতে খিদে তো মিটবে।”
ছবি: সুনীতা সিং