সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: নেহাতই সন্দেহের বশে একটি পরিবারকে একঘরে করে রাখল একদল বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুকুন্দপুর গ্রামে। স্থানীয় এক বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। লালারসের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এতেই আতঙ্ক ছড়ায় গ্রামের মানুষের মনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুকুন্দপুর গ্রামের এক বাসিন্দা গত ৬ এপ্রিল কলকাতা থেকে বাড়ি ফেরেন। এর কয়েকদিন পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি কলকাতার কোলে মার্কেটে ব্যবসা করেন। বাড়ি ফেরার কয়েকদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয়। লালারসের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত এসে না পৌঁছায়নি। তার আগেই ওই ব্যক্তি করোনা (Corona) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এই আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা তাঁর পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে।
[আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় শ্রেষ্ঠ কর্মীদের ‘কোভিড হিরো’ পুরস্কার দেবে তেহট্টের ব্লক প্রশাসন ]
গত বুধবার এই খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছলে রামনগর থানার পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই গ্রামে যান। গ্রামবাসীদের এব্যাপারে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দেন তাঁরা। যদিও প্রশাসনের সেই আশ্বাসে কাজ হয়নি। গ্রামের মানুষ এখনও পরিবারটিকে সন্দেহের চোখেই দেখছেন।
এপ্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক নাজিরুদ্দিন সরকার জানান, করোনা আতঙ্কে একটি পরিবারকে মুকুন্দপুর গ্রামে সামাজিকভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছে এই খবর তিনি পেয়েছেন। পরিবারটির সঙ্গে দেখা করতে খুব শীঘ্রই গ্রামে যাবেন। করোনার মতো মারণ ব্যাধির প্রকোপ রুখতে গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে হবে, আতঙ্কিত নয়।