সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংক্রমণ রুখতে লকডাউন চলছে। এদিকে সেই লকডাউন মানতে বহু গরিব মানুষকে পেটে গামছা বেঁধে থাকতে হচ্ছে। ভাঁড়ারে টান পড়েছে, হাতে টাকা নেই। সরকারি সাহায্যেও সবক্ষেত্রে জুটছে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি এক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক চরমে উঠেছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের খরা কাটাতে দেশের অতিরিক্ত চাল থেকে ইথানল তৈরি করা হবে। কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের তরফে সোমবার এমনটাই জানানো হয়েছে এক নির্দেশিকায়।
লকডাউনের পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দাবি করে এসেছে, সরকারি খাদ্যশস্যের গোডাউন খাদ্যশস্য ফসলে ভরতি রয়েছে। অথচ জল খেয়ে পেট ভরাতে হচ্ছে বহু মানুষকে। এমন পরিস্থিতিতে এহেন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। জৈব জ্বালানি সংক্রান্ত জাতীয় নীতি, ২০১৮-র উল্লেখ করে সরকার এদিন জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বাধীন এনবিসিসি-র এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে পেশ করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে,”ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত চাল থেকে অ্যালকোহল-যুক্ত স্যানিটাইজার নির্মাণ এবং ইথানলের সঙ্গে পেট্রোল মেশানোর পরিকল্পনায় সম্মতি মিলেছে।”
[আরও পড়ুন : খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মুম্বইয়ে করোনায় আক্রান্ত ৫৩ জন সাংবাদিক]
জৈব জ্বালানি সংক্রান্ত জাতীয় নীতিতে বলা হয়েছে, যদি কোনও বছর কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়, তাহলে এই নীতি অনুসারে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য থেকে ইথানল তৈরি করায় অনুমতি দেওয়া যাবে। তবে জাতীয় জৈব জ্বালানি সমন্বয় কমিটির অনুমোদন পেলে।
লকডাউন শুরু হওয়ার পর কেন্দ্র সরকার দরিদ্রদের অতিরিক্ত খাদ্যের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতি মাসে ৫ কেজি গম বা চাল দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তবে যাঁদের রেশন কার্ড রয়েছে তাঁরাই এই চাল, ডাল পাচ্ছেন। অথচ বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রেশন কার্ড নেই। ফলে সই রেশন পাচ্ছেন না। এর মাঝেই অতিরিক্ত চাল দিয়ে স্যানিটাইজার বানানোর সিদ্ধান্তে বিতর্ক ছড়িয়েছে।