সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউন করে চিনের ইউহান প্রদেশে করোনার সংক্রমণ রোখার চেষ্টা করেছিল জিংপিং প্রশাসন। কেমন ছিল সেই দিনগুলো? কীভাবে সময় কাটিয়েছিলেন ইউহানবাসীরা? হাসপাতালগুলোরই বা কী পরিস্থিতি ছিল সেই সময়? সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি করছিলেন চিনের পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখিকা ফাং ফাং। সোশ্যাল মিডিয়ায় চূড়ান্ত প্রশংসিত হয়ছে তাঁর লেখা। এমনকী, একাধিক ভাষায় সেই লেখা মুদ্রিত হওয়ার কথাবার্তায় চলছিল। আর সেই প্রশংসাই যে তাঁর কাল হবে কে জানত! সোশ্যাল মিডিয়ায় চিনের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে লেখালিখি করার জেরে লাগাতার খুনের হুমকির মুখে পড়তে হল পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখিকাকে। প্রসঙ্গত, ইউহানের করোনা পরিস্থিতির ‘হুইশেল ব্লোয়ার’রা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ হয়ে রয়েছেন। এবার এই লেখিকার বিরুদ্ধে খুনের হুমকি আসায় স্বভাবতই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে চিনের ইউহান প্রদেশ থেকে করোনা ছড়াতে শুরু করে। সংক্রমণ ঠেকাতে ওই এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সেখানেই থাকেন ওই লেখিকা ফাং ফাং। যাঁর আসল নাম ওয়াং ফাং। শহরের পরিস্থিতি নিয়ে কলম ধরেন তিনি। তাঁর লেখায়, শিল্পতালুক এলাকার মানুষের রাগ, অভিমান, আশা-নিরাশার কথা উঠছে এসেছে। আবার সংকটের সময় পড়শিরা কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাও সুন্দরভাবে ব্যাখা করেছেন তিনি। কখনও আবার একাকিত্বের যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে তাঁরা কলমে।
[আরও পড়ুন : সংক্রমণের আশঙ্কা, করোনা টেস্ট পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের]
এক জায়গায় তিনি লেখেন, “এক চিকিৎসক বন্ধু আমাকে জানান, চিকিৎসকরা যখন জানতে পারে মানুষ থেকে মানুষের কাছে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা উচ্চপদস্থ কর্মীদের জানান। কিন্তু তাঁদের কথায় কেউ পাত্তা দেয়নি বলে অভিযোগ।” অনলাইনে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষ তাঁর লেখা পড়ছেন। বিভিন্ন ভাষায় তাঁর এই লেখা মুদ্রিত হওয়ার কথা। এর মাঝেই একাধিক হুমকির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অভিযোগ উঠেছে, ওই লেখিকার লেখনিকে হাতিয়ার করে বিশ্বের অন্য দেশগুলি চিনের বিরুদ্ধে জীবাণু ছড়ানোর অভিযোগ করছে।
[আরও পড়ুন : বৃহস্পতিবারই শুরু হবে করোনার ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ, তোড়জোড় শুরু ব্রিটেনে]
লেখিকার অভিযোগ, তাঁর বাড়ির ঠিকানা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে একটা কথা লিখলে তাঁকে খুন করা হবে। কেউ কেউ আবার লিখছেন, কত টাকায় ইউরোপ আমেরিকার কাছে নিজের দেশবিরোধী লেখা বেচলেন তিনি। এ ধরণের একের পর এক মন্তব্যে অতিষ্ঠা ফাং ফাং সোশ্যাল মিডিয়া উইবো (Weibo )-র অভিযোগ জানিয়েছেন।