ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: দেশজুড়ে বাড়ছে করোনার দাপট। এই পরিস্থিতি একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মীরা। করোনা সৈনিকদের সেই তালিকায় প্রথমদিকে নাম রয়েছে সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদেরও। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন অকুস্থলে। এবার তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করল কলকাতা প্রেস ক্লাব। তাদের উদ্যোগে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের করোনাপরীক্ষা করা হবে।
বাংলাতেও অব্যাহত করোনার দাপট। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬১। মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ও কলকাতা প্রেস ক্লাব এক অভিনব উদ্যোগ নিল। যা দেশের মধ্যে প্রথম। এর আগে মুম্বই, চেন্নাই ও দিল্লিতে সরকারি উদ্যোগে সাংবাদিকদের লালারসের পরীক্ষা করা হচ্ছিল। তবে তাতে প্রেস ক্লাবের কোনও ভূমিকা ছিল না বলেই খবর। কলকাতায় এই উদ্যোগ নিল প্রেস ক্লাব। এদিন প্রেস ক্লাবের তরফে জানানো হয়, কলকাতায় যেসব সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিক অকুস্থলে (করোনা হাসপাতাল এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায়) গিয়ে খবর ও ছবি সংগ্রহ করছেন, কলকাতা প্রেস ক্লাব তাদের লালারস পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে প্রতিদিন দুপুর ১২টায় ১৫ জন জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম রাখা হয়েছে।
[আরও পড়ুন : আইসোলেশনের ভয়ে উপসর্গ গোপনেই বাড়ছে করোনার আশঙ্কা, মত বিশেষজ্ঞদের]
- সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের তাদের নিজ নিজ সংস্থা থেকে স্বাক্ষরিত একটি তালিকা প্রেস ক্লাবে [email protected] এই ই-মেইল আইডিতে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
- তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল আইডি দিতে হবে।
- ফ্রিলান্স সাংবাদিকরা নিজেরাই দরখাস্ত করবেন।
- প্রত্যেককে আধার কার্ড নিয়ে যেতে হবে বা নিজের আধার নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
জানা গিয়েছে, রিপোর্ট পেতে দু-তিন দিন সময় লাগবে। সেই রিপোর্ট স্বাস্থ্যভবন মারফত প্রেস ক্লাবে আসবে। যদি সংক্রমণ পাওয়া যায় তাহলে জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রত্যেকদিনের জন্য বিভিন্ন সংস্থার ১৫ জনের নামের তালিকা প্রেস ক্লাব থেকে তৈরি করে জানানো হবে৷ যাদের নাম প্রেস ক্লাব থেকে ওইদিনের জন্য পাঠানো হবে শুধু তাদেরই লালারস পরীক্ষার জন্য নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার ব্যবস্থা এখন চালু থাকবে। যারা সরাসরি অকুস্থলে যাচ্ছেন, তাঁরাই অগ্রাধিকার পাবেন।