Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
সিঙ্গাপুর

২১ মে থেকে দেশে কমবে করোনার দাপট? সিঙ্গাপুরের গবেষণার দাবির যৌক্তিকতা কতটা?

কী তথ্য তুলে ধরা হল মডেলে?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৭, ২০২০, ২০:৫০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৭, ২০২০, ২০:৫০

options
link
২১ মে থেকে দেশে কমবে করোনার দাপট? সিঙ্গাপুরের গবেষণার দাবির যৌক্তিকতা কতটা? zoom

সিঙ্গাপুরের প্রযুক্তি ও ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রকাশিত মডেলে দাবি করা হচ্ছে, আগামী ২১ মে থেকে ভারতে করোনার দাপট কমবে। কতটা যুক্তিযুক্ত এই দাবি? কলম ধরলেন হীরালাল মজুমদার মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যাপক ঋত্বিক আচার্য

আশা-হতাশার দোলাচলে দুলছে গোটা দেশ। ৩ মে লকডাউনের দ্বিতীয় ধাপ শেষ হবে। আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে চললেও বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রিত বলে বক্তব্য বিশেষজ্ঞদের বেশ কিছু রাজ্য আর জেলা ইতিমধ্যে করোনা মুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এইরকম পরিস্থিতিতে Singapore University of Technology and Design-এর প্রকাশিত একটি মডেল। এই মডেলে দাবি করা হয়েছে যে ভারতবর্ষে ২১ মে সংক্রমণ ৯৭% কমে যাবে। ১ জুন ৯৯% এবং ২৬ জুলাই করোনা শূন্য হবে আমাদের দেশ। SIR (susceptible-infected-recovered) মডেলের উপর ভিত্তি করে বানানো এই পরিসংখ্যান থেকে উঠে আসছে যে, সংক্রমণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। মে মাসের শেষে সারা পৃথিবীতেই সংক্রমণ কমে আসবে প্রায় ৯৭ শতাংশ।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: শরীরে করোনার উপসর্গ, হাসপাতালে ভরতি নিতে বলে ভিডিওতে কাতর আর্জি কনস্টেবলের]

SIR মডেলটি আজকের নয়। এর প্রয়োগ শুরু হয় ১৯২৭ সাল থেকে। এর সাহায্যে মূলত বায়ুবাহিত রোগের (হাম, মাম্পস প্রভৃতি) সংক্রমণের ফলে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ইমিউনিটি দেখা হত। এক্ষেত্রে অবশ্য এই মডেলের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। University of Richmond-এর অধ্যাপক Lester Caudill-এর মতে, গোটা বিশ্বের সংক্রমণের হারের উপর ভিত্তি করে এই মডেল তৈরি হয়েছে। যেখানে হারের বিষয়টিকে সার্বিক সরলীকরণ করা হয়েছে। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি এটাও উল্লেখযোগ্য যে এই রোগের কোনও পূর্ববর্তী তথ্য আমাদের কাছে নেই। এই ভাইরাসের প্রকৃত সংক্রমণের মাধ্যমগুলি কী কী অথবা কোনও বস্তুর উপর এই ভাইরাস কতক্ষণ থাকতে পারে, সংক্রমণ ছড়াতে আদপে সঠিকভাবে কত সময় লাগে বা উপসর্গহীন বাহক- এই বিষয়গুলি এই মডেলে আলাদাভাবে গুরুত্ব পাইনি বলে এই মডেল নিয়ে সন্দিহান অধ্যাপক Caudill।

IIT দিল্লির অধ্যাপক তথা কম্পিউটেশনাল মডেলিং বিশেষজ্ঞ এন এম অনুপ কৃষ্ণণ, ভারতবর্ষে COVID-19 প্রেডিকশন মডেলের উপর কাজ করা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই মডেলটি থেকে পাওয়া ফল নিয়ে তিনি বিশেষ আশাবাদী নন। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, এই মডেলে সমগ্র দেশের সংক্রমণ সংখ্যাকে একত্রিত করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে। যা সঠিকভাবে সংক্রমণের হার প্রত্যেক ক্ষেত্রে ব্যখ্যা করতে অক্ষম। তিনি আরও জানান, মহামারির ক্ষেত্রে এই মডেল অনেকটাই প্রাথমিক স্তরের, যা করোনার মতো রোগের ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার ব্যাখ্যায় বোধহয় যথাযথ নয়।

[আরও পড়ুন: দুই চিনা সংস্থার টেস্ট কিট ‘কাজের অযোগ্য’, বরাত বাতিল করল কেন্দ্র]

বিশ্বের ব়্যাঙ্কিংয়ে ৩০৩৭ নম্বরে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য জানিয়েছে, তাদের এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র পরবর্তী গবেষণার তথ্য হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। জটিল এবং বিবিধ প্রকার সংক্রমণ পথের ক্ষেত্রে তাদের পরিসংখ্যান উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাদের আগাম এই পরিসংখ্যান নিয়ে তারা কোনও নিশ্চয়তা ব্যক্ত করেনি। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কোনওরকম নিয়মে শিথিলতা আনতে তারা নিষেধ করেছে। প্রসঙ্গত, এই বিশ্ববিদ্যলয় সিঙ্গাপুরে এই সংক্রমণ ৮ অগাস্ট শেষ হবে বলে মনে করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবর্ষ ১৪ মে থেকে পিছিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু করতে চলেছে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.