সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আবহেও পাল্টাচ্ছে না পাকিস্তানের স্বভাব। কাশ্মীর সীমান্তে লাগাতার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালাচ্ছে পাক ফৌজ। পাশাপাশি কাশ্মীরে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এহেন পরিস্থিতিতে ফের যুদ্ধের জিগির তুললেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দর।
[আরও পড়ুন: দাউদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র লস্করের, ভারতে ২৬/১১-র ধাঁচে হামলার ছক পাকিস্তানের]
মঙ্গলবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একটি গ্রাম পরিদর্শনে যান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দর। সেখানে করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি বলেই খবর। সফর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ভারত কাশ্মীরের আবহাওয়ার তথ্য দিচ্ছে। আমাদের উচিত দিল্লির অবহাওয়ার বিবরণ দেওয়া। এবার আর আলোচনা নয়। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উচিত ভারতে হামলা চালানোর জন্য ফৌজকে আদেশ দেওয়া।”
এদিকে, পাক মন্ত্রীর এহেন বয়ানের পরই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। রওয়ালপিণ্ডিতে পাক সেনার সদরদপ্তরেও মন্ত্রীর এহেন বয়ানে কিছুটা অসন্তোষ ছড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর উপত্যকায় মুজাহিদদের দিয়ে ছায়াযুদ্ধ চালানো আর সুশিক্ষিত ও বলশালী ভারতীয় সেনার সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামা এক কথা নয়। সরাসরি লড়াইয়ে নামলে ফল কী হতে পারে তা ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯-এর যুদ্ধের সময় দেখেছে পাক সেনা। তারপর রয়েছে, পাক অর্থনীতির বিদ্ধস্থ অবস্থা ও করোনার হামলা। সব মিলিয়ে সন্ত্রাসে উসকানি দেওয়া ছাড়া আপাতত পাক ফৌজের আর কিছুই করার নেই।
উল্লেখ্য, সদ্য প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মুম্বই হামলার ধাঁচে ভারতকে রক্তাক্ত করার ছক কষছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা। এই কাজের জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে লস্কর। গত রবিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি খামার বাড়িতে দেখা গিয়েছে ‘ডি-কোম্পানি’র প্রধান দাউদ ইব্রাহিমকে। প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারফের বাসভবনের পাশেই ফার্ম হাউসটি অবস্থিত। আইএসআইয়ের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছায় দাউদ। ওই বাড়িতে ভারতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে শীর্ষ লস্কর নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের মূল হোতা।