সন্দীপ চক্রবর্তী: রাজ্যে একদিনে রেকর্ড সংখ্যায় করোনা আক্রান্ত। রবিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে প্রকাশ যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৮ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই প্রথম ২০০র গণ্ডিও পেরোল রাজ্যে। সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এদিন এত বেশি সংখ্যায় পজিটিভ ধরা পড়ে রাজ্যে। গত কদিন ধরেই দেড়শো পেরোয়নি অবশ্য।
উল্লেখযোগ্যভাবে শুধুমাত্র মালদহে একদিনে ৩১ এবং মুর্শিদাবাদে ৯ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই দুই জেলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে। উত্তর দিনাজপুরে ১৩, নদিয়ায় এক ও বীরভূমে দুই জনের রিপোর্ট পজিটিভ। এই জেলাগুলিতে ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিক ফিরে আসার ফলেই সংখ্যা বাড়ছে। তেমনভাবেই গ্রাম বাংলার বহু জায়গায় শ্রমিকদের পজিটিভ ধরা পড়ছে। তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। রাজ্যে এদিন মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।

[আরও পড়ুন: করোনা পরীক্ষা ছাড়াই মুক্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকা শ্রমিকরা, বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা]
এর ফলে শুধুমাত্র করোনার কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০। এই ২০০ জনের মধ্যে কলকাতার বাসিন্দা ১২৮, হাওড়ার ৩১ এবং উত্তর ২৪ পরগনার ২৯ জন রয়েছেন। এছাড়া হুগলির চারজন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঁচ জন, কালিম্পং ও দার্জিলিংয়ের একজন করে আছেন। ভিনরাজ্যের বাসিন্দা একজন।
এদিন মৃত তিনজনের মধ্যে কলকাতার দুই ও হুগলির একজন। আক্রান্তদের ক্ষেত্রে কলকাতার ৫২, হাওড়ায় বেড়ে ৪৮, উত্তর ২৪ পরগনার ২১ ও হুগলির ২০ জন ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দা রয়েছেন। রাজ্যে ৯ হাজার ২১৬টি পরীক্ষা করা হয়েছে এদিন। মোট পরীক্ষা এক লক্ষ ৩৮ হাজার ৮২৪টি। প্রতি দশ লক্ষের নিরিখে টেস্টের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৫৪২। এদিন অ্যাকটিভ করোনা আক্রান্ত দুই হাজার ৫৬। ছাড়া পেলেন এক হাজার ৩৩৯ জন। সুস্থতার হার বেড়েছে অনেকটাই। বর্তমানে সুস্থতার হার ৩৬.৫১ শতাংশ। লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ার পরই কি হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ, প্রশ্নটা থেকেই যায়।