সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১ জুন কেরলে প্রবেশ করছে বর্ষা, জানাল মৌসম ভবন। কেরলে এবছর জুনের পয়লা দিনেই বর্ষা ঢুকলেও এই রাজ্যে বর্ষা কবে আসবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সাধারণত ৮ জুন, বর্ষা গাঙ্গেয় বঙ্গে ঢুকে পড়ে। তবে এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগর থেকেও প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। যার ফলে বৃষ্টির সম্ভবনাও রয়েছে। তাহলে বঙ্গেও যে এবার বর্ষা বিলম্বিত নয়, এমনটা আন্দাজ করাই যায়।
সপ্তাহ শেষে কেরল একটু ভিজে ভাবেই কাটাতে চলেছে। আরব সাগরের ওপর ২ টি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। একটি দক্ষিণ-পূর্বে এবং অপরটি পূর্ব-মধ্য অংশে। একটি শুক্রবার এবং অপরটি রবিবারে। যা প্রাক বর্ষার বৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বর্ষাকেও এগিয়ে আনবে বলে আবহাওয়া দপ্তরের অনুমান। কেরলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু।
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ রাত থেকে আরব সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেরল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি। অন্যদিকে, যেসব মৎস্যজীবী ইতিমধ্যেই সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদেরকে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই ফিরে আসতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে মৎস্যজীবীদের ৩১ মে থেকে ৪ জুনের মধ্যে গভীর সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে।
দিন কয়েক আগেই মৌসম ভবন জানিয়েছিল, ১৬ মে’র মধ্যে আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষা প্রবেশ করবে। পূর্বাভাস মিলিয়ে হয়েছেও তাই। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী জুনের প্রথম সপ্তাহেই কেরল হয়ে ভারতের মূল ভূ-খণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করে। যা সাধারণত সেপ্টেম্বর অবধি স্থায়ী হয়। মৌসম ভবন সূত্রে খবর, এবার জুন মাসের একেবারে পয়লা তারিখে বর্ষা ঢুকছে কেরলে। অতঃপর, এবার বর্ষা যে বিলম্বিত নয়, একেবারে ঠিকঠাক সময়েই ভারতে প্রবেশ করছে, তারই ইঙ্গিত দিল মৌসম ভবন।
[আরও পড়ুন: সদ্যোজাতকে জ্যান্ত কবর দিয়ে পলাতক বাবা-মা, স্থানীয়দের চেষ্টায় রক্ষা পেল একরত্তি]
বিগত কয়েক দিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-ঝঞ্ঝা চলছে। আমফানের ক্ষত শুকোনোর আগেই আবারও বুধবার সন্ধে নাগাদ একাধিক অঞ্চলে চলেছে ঝড়-বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার খানিক বেলা অবধি আবহাওয়ার সেরকম কোনও উন্নতিই হয়নি। হাওয়া অফিস জানান দিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শুধু বৃহস্পতিবারই নয় আগামী চার-পাঁচ দিন রাজ্যজুড়ে চলতে পারে এই ঝড়-বৃষ্টি, এমনটাই আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তাপমাত্রার পারদও খানিক কম। ভ্যাপসা গরম নেই। বুধবারের বৃষ্টির জেরে ঠান্ডা আবহাওয়াই রয়েছে। ওদিকে আবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। অতঃপর আশা করাই যায় যে, কেরলে যদি জুনের পয়লা দিনেই বর্ষা প্রবেশ করে, তাহলে বঙ্গবাসীদেরও যে খুব একটা অপেক্ষা করতে হবে না বর্ষার জন্যে, তা কিছুটা হলেও আন্দাজ করাই যায়।