দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: চিকিৎসার গাফিলাতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে প্রবল উত্তেজনা দেখা দিল চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধমার লেগে যায় হাসপাতাল চত্বরে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দিলেও এখনও উত্তেজনা রয়েছে।
শুক্রবার সকালে চুঁচুড়ার প্রতাপপুরের বাসিন্দা চন্দন দত্ত (৩৫) বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা করাতে ওই হাসপাতালে আসেন। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, করোনা আতঙ্কের জেরে চিকিৎসকরা চন্দনকে দূর থেকে দেখেই কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং তাঁকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। তারা ওই যুবককে হাসপাতালে ভরতি করাতে চাইলেও চিকিৎসকদের আপত্তিতে ভরতি নেওয়া হয়নি। বাড়িতে আসার পর দুপুরের দিকে চন্দনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বাধ্য হয়ে ফের তারা বিকেল চারটে নাগাদ ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি তিনি ছুঁয়েও দেখেননি।
[আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনার বলি সাত, তবে স্বস্তি দিচ্ছে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা ]
এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে মৃতদেহ নিয়েই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে গেলে হাসপাতালে পৌঁছয় চুঁচুড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও RAF। প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেষে লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয় পুলিশ। পরে তাদের হস্তক্ষেপে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছিল।
চন্দনের পরিবারের দাবি, চিকিৎসক যদি ঠিক মতো রোগীকে দেখতেন তবে তাঁর মৃত্যু হত না। যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।