সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (World Health Organisation) টাকা দেওয়া আগেই বন্ধ করেছিল আমেরিকা। এবার পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, WHO-এর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চিনের হাতে চলে গিয়েছে। তাছাড়া, করোনা রুখতে এবং করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে যে সংস্কারের প্রয়োজন, তা করে উঠতে পারেনি WHO। তাই আন্তর্জাতিক সংগঠনটির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করছে আমেরিকা।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, “আমরা ওদের যে অতি প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি করতে বলেছিলাম, সেগুলি ওরা করতে পারেনি। সেজন্যই WHO’র সঙ্গে আজ থেকেই আমি সব সম্পর্ক ছিন্ন করছি।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,”গোটা বিশ্ব এই ভাইরাস নিয়ে চিনের কাছে জবাব চাইছে। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।” ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, এতদিন যে টাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সাহায্য করা হত, সেটা এখন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে দেওয়া হবে।
[আরও পড়ুন: এই তো জীবন! করোনাকে হারিয়ে হাসপাতালের বেডেই ঠান্ডা বিয়ারে চুমুক ১০৩ বছরের বৃদ্ধার]
বিশ্বে নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের নেপথ্যে চিনের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাকে আড়াল করছে WHO, এই অভিযোগেও সরব হয়েছিলেন। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মার্কিন অনুদান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন ট্রাম্প। সেখানেই ক্ষান্ত হননি ট্রাম্প (Donald Trump)। গত ১৯ মে তিনি WHO প্রধান টেডরোজ আধানম ঘেব্রিয়েসুসকে একটি চিঠি লিখে হুমকি দেন, WHO’র বিরুদ্ধে অস্থায়ীভাবে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা অচিরেই স্থায়ী হয়ে যাবে। যদি না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগামী এক মাসের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। প্রায় দু পাতার দীর্ঘ চিঠি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও বক্তব্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিজেদের সদস্যপদ নিয়েও ভাববে আমেরিকা। সেই চিঠি পাঠানোর পর দিন দশেক কাটতে না কাটতেই বড়সড় পদক্ষেপ করে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
[আরও পড়ুন: সীমান্ত বিবাদে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা চায় না ভারত, বুঝিয়ে দিল বিদেশমন্ত্রক]
উল্লেখ্য, আমেরিকায় করোনা সংক্রমণ একপ্রকার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। করোনার এই পরিস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই WHO এবং চিনকে তোপ দেগে চলেছে আমেরিকা। চিনের অবশ্য অভিযোগ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বেজিং এবং WHO কে ঢাল করছেন ট্রাম্প।