সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভিসা আধিকারিকের আড়ালে গুপ্তচরের কাজ করত। আগে থেকে খবর পেয়ে নজর রেখেছিল দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের আধিকারিকরাও। অবশেষে তাতেই সাফল্য মিলল হাতেনাতে ধরা পড়ল দিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের দুই ভিসা আধিকারিক। তাদের নাম আবিদ হুসেন ও তাহির খান। এই কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক পাকিস্তানি নাগরিক জাভেদ হুসেন আটক করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত আছে তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের দুই ভিসা আধিকারিককে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে।
Pakistan’s Charge de Affaires was issued a demarche in which a strong protest was lodged with regard to the activities of these officials of the High Commission of Pakistan against India’s national security: MEA (1/2) https://t.co/WRBBUHSmdS
Advertisement— ANI (@ANI) May 31, 2020
ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি কূটনৈতিক মিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত থাকার পরে নিজেদের দায়িত্বের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন এই দুই আধিকারিক। তাই সরকারের তরফে তাদের অনাস্থাভাজন দূত (persona non grata) ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান দূতাবাসের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আগামিদিনে পাকিস্তান দূতাবাসের কোনও আধিকারিক বা কর্মী যেন নিজেদের কূটনৈতিক কাজের পরিবর্তে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম জড়িত না থাকে। এটা তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে।
[আর পড়ুন: করোনা আক্রান্ত মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক! হোম কোয়ারেন্টাইনে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ]
সূত্রের খবর, আবিদ হূসেন ও তাহির খান নামে পাকিস্তান দূতাবাসের ওই দুই আধিকারিক নামেই ভিসা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল। এর আড়ালে তারা আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করত। জাল কাগজপত্র দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরত। রবিবার সকালে দিল্লির করোল বাগ এলাকায় এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। তারা যখন ওই ব্যক্তির থেকে ভারতীয় সেনা সংক্রান্ত কিছু নথি নিচ্ছে তখনই তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন দিল্লি পুলিশ স্পেশ্যাল সেলের সদস্যরা। ধরা পড়ে সেখানে থাকা আরও এক পাকিস্তানি নাগরিক জাভেদ। ধরা পড়ার সময় জাল আধার কার্ড দেখিয়ে নিজেদের ভারতীয় বলে দাবি করে তারা। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর নিজেদের পরিচয় স্বীকার করে নেয়।