সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখে ভারত-চিন সংঘাতের আবহে কিছুটা জমি ফিরে পেল ভারত। গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনার প্রত্যাঘাতের ‘ভয়ে’ ২ কিলোমিটার পিছু হটল চিনা সেনা। সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু থেকে এক কিলোমিটার পিছিয়ে এসেছে ভারতীয় সেনাও।
মে মাসের গোঁড়ার দিক থেকেই গালওয়ানে ঘাঁটি গেড়েছিল চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বহু সেনাকর্মী। গালওয়ান উপত্যকা (Galwan Valley) বরাবর ১০০টিরও বেশি তাঁবু খাটিয়েছিল চিনারা। মোতায়েন করা হয়েছিল কয়েক হাজার সেনা। গত দু’সপ্তাহ ধরে চিনাদের পালটা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ভারতও। সীমান্তের এপারেও মোতায়েন হয়েছিল সুসজ্জিত কয়েক হাজার সেনাকর্মী। এরই মধ্যে বুধবার নিজেদের ‘পজিশন’ থেকে ২ কিলোমিটার পিছিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে চিনা বাহিনীকে। চিনারা পিছিয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় বাহিনীও ১ কিলোমিটার পিছিয়ে এসেছে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর।
[আরও পড়ুন: ‘সরকার নিশ্চিত করে বলুক, কোনও চিনা সেনা ভারতে ঢোকেনি’, খোঁচা রাহুলের]
গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনার অন্তত তিনটি সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু আছে। যার মধ্যে বুধবার একটি থেকে পিছিয়ে গিয়েছে চিনা সেনা। বেশ কিছুদিন থেকে গালওয়ান উপত্যকায় আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখাচ্ছিল চিনা সেনা। কিন্তু গত দু’দিন ধরে তাঁরা পুরোপুরি শান্ত। যদিও, ঠিক কি কারণে হঠাৎ চিনাদের এই সুবুদ্ধির উদয়, তা স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, চিনারা বুঝতে পেরেছে ডোকলামের মতো চাপ সৃষ্টি করে ভারতীয় ভূখণ্ডে আর প্রবেশ করা যাবে না। আর সেটা বুঝতে পেরেই তাঁরা পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে শনিবারই দুই দেশের সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার আধিকারিকদের বৈঠক। তার আগে চিনা সেনার এই পিছিয়ে যাওয়া, ভারতের জন্য শান্তিবার্তাও হতে পারে। সবকিছুই স্পষ্ট হবে শনিবারের বৈঠকের পর।
[আরও পড়ুন: লাদাখে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ, বৈঠকে বসছেন ভারত ও চিনের লেফটেন্যান্ট জেনারেলরা]
যদিও, শনিবারের বৈঠকে দু’দেশের আধিকারিকদের মধ্যে গালওয়ান উপত্যকা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা নয়। বৈঠকে শুধু প্যাংগং লেক নিয়েই আলোচনা হতে পারে। কারণ ভারত মনে করছে, গালওয়ান উপত্যকায় চিনারা এখনও নিজেদের সীমান্তের মধ্যেই আছে। বিতর্কিত কোনও এলাকা দখল করেনি। প্যাংগংয়ের সমস্যা গালওয়ানের থেকে গুরুতর।