সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউনের শিথিলতাই কি কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে? আনলক ওয়ানই কি ঘোরতর বিপদ ডেকে আনছে? বাংলা তথা গোটা দেশে বাড়তে থাকা আক্রান্তের সংখ্যা কিন্তু সে কথাই বলছে। গত তিনদিন ধরে টানা তিনশোর উপর ছিল বাংলায় আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু শুক্রবার অতীত সব রেকর্ড ছাপিয়ে সংক্রমিতের সংখ্যা পেরল চারশোর গণ্ডি।
এদিন রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২৭ জন। একলাফে অনেকখানি বাড়ায় রাজ্যে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৩০৩-এ। যাদের মধ্যে অ্যাকটিভ কেস ৪ হাজার ২৫টি। আনলক ওয়ানে দ্রুত বাড়তে থাকা সংখ্যাটা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বইকী। সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই বাসে যাতায়াত করছেন সাধারণ মানুষ। বাজারেও উপচে পড়া ভিড়। সরকারি নির্দেশিকাকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ‘স্বাভাবিক’ জীবনে ফিরতে মরিয়া রাজ্যবাসী। আর এই প্রবণতাই ডেকে আনছে বিপদ।
[আরও পড়ুন: আমফানে দুই ২৪ পরগনার ক্ষয়ক্ষতি কত? শনিবার নবান্নকে জানাবে কেন্দ্রীয় দল]
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাটাও। স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনার বলি ১১জন। মোট মৃতের সংখ্যা ২৯৪। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪৪ জন। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত সুস্থ ২,৯১২ জন। স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসখ্যান অনুযায়ী, এই পর্বে বাড়ছে নমুনা পরীক্ষার হারও। একদিনে ৯ হাজার ৬৮৬টি নমুনা টেস্ট হয়েছে। এ রাজ্যে এখনও অবধি ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৫১৭টি স্যাম্পেল টেস্ট হয়েছে।
১ জুন থেকে দেশজুড়ে আনলক ওয়ান দফা শুরু হয়েছে। কনটেনমেন্ট জোন ছাড়া বাকি সর্বত্রই শিথিল লকডাউন। আবার রাজ্যে বদলে গিয়েছে কনটেনমেন্ট জোনের পরিধিও। পরিধি আগের তুলনায় ছোট হয়েছে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। অফিস-কাছারি, ধর্মীয় স্থান আগেই খুলেছে। সোমবার থেকে খুলে যাবে শপিং মল, রেস্তরাঁও। কিন্তু সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করায় সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। গোটা দেশেও আজ আক্রান্তের রেকর্ড বৃদ্ধি ঘটেছে। স্বস্তি দিচ্ছে না বাংলার পরিসংখ্যানও।