সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচন বড় বালাই। তাই করোনা আবহেও অনলাইনে প্রচার শুরু করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ (Amit Shah)। রবিবার বিহারে ভারচুয়াল প্রচার সারলেন তিনি। যদিও এটাকে নির্বাচনী ক্যাম্পেন বলতে নারাজ বিজেপি। বরং সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে, তাঁদের মনোবল বাড়াতে এই প্রচার বলে জানান অমিত শাহ। বলেন, “এটা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হওয়া যোদ্ধাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য। যাঁরা এরমধ্যে রাজনীতি দেখছেন, আমি তাদের বলতে চাই, কে তাদের সভা করতে নিষেধ করেছে? আপনারা সকলেই দিল্লিতে আরামে বসে রয়েছেন”।
আবার এই প্রচারসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ছয় বছরের সাফল্যে খতিয়ান থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য করা ব্যবস্থার তথ্য তুলে ধরেন। আবার পরিযায়ীদের নিয়ে বিরোধীদের বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। ফলে অরাজনৈতিক প্রচারসভা থেকে কার্যত বিহারের বিধানসভা ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়ে গেলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি। যতই শরিকি কোন্দল নিয়ে প্রচার করুক বিহার নির্বাচনের নেতা যে নীতীশ কুমার-ই, তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন অমিত শাহ।
টানা দুমাসের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা লকডাউনে ব্যপক সমস্যায় পড়ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁদের ঘরে ফেরার ভোগান্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় ও বিহারের নীতীশ কুমার সরকার। বলাইবাহুল্য পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বড় অংশ বিহার ও উত্তরপ্রদেশের। ফলে ভোটবাক্সে সেই ভোগান্তির ছাপ পড়লে তা যে নীতীশ কুমার বা বিজেপির জন্য ভাল হবে না, তা ভালই জানেন অমিত শাহ। তাই এদিনের প্রচারের সিংহভাগ জুড়েই ছিলেন এই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলি। অমিত শাহ বলেন, “প্রায় ১.২৫ কোটি মানুষকে ঘরে ফিরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মানুষ হেঁটে আসছিলেন,যখন আমরা সেটি দেখতে পাই, আমরা তাঁদের স্টেশনে পৌঁছে দিতে বাস চালাই, এবং ট্রেনও চালু করি। আমরা খাদ্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করি”।
[আরও পড়ুন : জামশেদপুরের কাছে মাটির নিচে সোনার ভাণ্ডার, ঝাড়খণ্ড সরকারকে তথ্য দিল GSI]
এই ইস্যুতে বিরোধীদের বিঁধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, সরকার অনেক কাজ করছেন। আপনারা চুপ কেন। দিল্লির ঠান্ডা ঘরে বসে শুধু সমালোচনা করছেন। একইসঙ্গে তাঁর দাবি,“বিহারের মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে নেতারা। কিন্তু আপনাদের এই ধরণের কথাবার্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। মনে রাখবেন, গোটা দেশ আপনাদের প্রশংসা করে। যখন আপনারা উন্নয়নশীল রাজ্যের ভিত্তি দেখবেন, আরপনারা দেখতে পাবেন, তাঁদের ভিত্তিতে রয়েছে বিহারের ছোঁয়া”।