সৌরভ মাজি, বর্ধমান: দিন কয়েক ধরেই ই-মেল পাচ্ছিলেন বর্ধমান এলাকার বাসিন্দারা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহার তরফে পাঠানো সেই ই-মেলে স্পষ্ট অর্থের দাবি। সঙ্গে উপহারের আকর্ষণীয় প্রলোভনও। কিছুটা ধাঁধায় পড়ে গিয়েছিলেন সাধারণ বাসিন্দারা। যদি ছাত্রছাত্রীদের কাছে ই-মেল আসত, তারও একটা অর্থ ছিল। হয়ত বা লকডাউনে বকেয়াটুকু মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলতে চাইছেন উপাচার্য। কিন্তু তা তো নয়। ফলে স্বভাবতই বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ছিলেন এই ই-মেল প্রাপকরা।
[আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জাতিবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালবাজারের বিজেপি নেতা]
গত ১০ তারিখ ঘটনা নজরে আসে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেন সকলে। দেখেশুনে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহার নামে তৈরি করা হয়েছে ভুয়ো একটি ই-মেল আইডি। সেখান থেকেই চলছে এমন দুষ্কর্ম। এরপর আর সময় নষ্ট করেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অভিজিৎ মজুমদার। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সতর্ক করে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। যাতে লেখা, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কেউ বা কারা এসব কাজ করছে। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা উপাচার্যের কোনও সম্পর্কই নেই। সকলে যেন এ ধরনের ই-মেল থেকে সাবধানে থাকেন, সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সরাসরি বর্ধমানের পুলিশ সুপারের দপ্তরেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ”অভিযোগ পেয়েছি, সাইবার ক্রাইম থানা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।” বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অভিজিৎ মজুমদারের বক্তব্য, ”অসৎ উদ্দেশে কেউ এই কাজ করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে। আশা করি, দ্রুতই দোষী ধরা পড়বে।” তবে যাঁর নামে পাঠানো ই-মেল ঘিরে এত শোরগোল, সেই উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহা কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন।