কলহার মুখোপাধ্যায়, বিধাননগর: দিনকয়েক আগে ধরা পড়েছিল ব্রেন টিউমার। তার জন্য শারীরিক এবং মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছিলেন। আর তারই পরিণতি হল মারাত্মক। দমদমের (Dum Dum) মল রোডে আইনজীবীর আত্মহত্যায় নেপথ্যে মানসিক অবসাদ বলেই দাবি তাঁর পরিবারের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশও মানসিক অবসাদকেই আত্মহত্যার কারণ হিসাবে ধরে নিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছুই বলতে রাজি নন তদন্তকারীরা।
মল রোডের আনন্দ হাউজিং কমপ্লেক্সের ৩১৭ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন বিজলীকান্ত ভট্টাচার্য। বছর পঁয়ষট্টির ওই আইনজীবীর রয়েছেন স্ত্রী ও মেয়ে। পেশায় আইনজীবী। সেলস ট্যাক্স দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে আর্থিক অনটন ছিল না। রবিবার সন্ধেয় তিনি বাড়ির মধ্যেই থাকা তাঁর চেম্বারে বসেছিলেন। পাশের ঘরেই ছিলেন স্ত্রী ও মেয়ে। আচমকা ওই ঘর থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। দৌড়ে ওই ঘরে যান স্ত্রী ও মেয়ে। দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন বিজলীকান্ত ভট্টাচার্য। চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন প্রতিবেশীরা। ইতিমধ্যেই দমদম থানায় খবর পৌঁছয়। পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহটি উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে শুরু করে দমদম থানার পুলিশ।
[আরও পড়ুন: আয়ুশ ক্কাথ তৈরিতে তুলসির আকাল, ১৫০ বিঘা জমিতে চাষের সিদ্ধান্ত রাজ্যের]
পুলিশ সূত্রে খবর, পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে নিজের মুখে বন্দুক থেকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন ওই আইনজীবী। নিজের চেম্বারে বসেই মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দুকটি বিজলিবাবুর নিজের। লাইসেন্স রয়েছে তাঁর নামেই। যদিও বন্দুকের বৈধতা সম্পর্কিত কাগজপত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতের স্ত্রী ও পরিবারের দাবি, বেশ কয়েকদিন আগে তাঁর ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। তার জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই আইনজীবী। মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত বলেই দাবি স্ত্রী ও মেয়ের। যদিও এটাই আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ কিনা তা খতিয়ে দেখতে মৃতের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলছেন তদন্তকারীরা।