বাবুল হক, মালদহ: কেটে গিয়েছে ৯০ ঘণ্টা। অবশেষে মালদহের (Maldah) টোটো বিস্ফোরণস্থলে পৌঁছলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। রবিবার সকালে ফরেনসিক টিমের দু’জন সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু নমুনাও সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা। কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কিছুই বলতে পারছেন না আধিকারিকরা।
গত মঙ্গলবার মালদহ শহরের ঘোড়াপীর এলাকার রাস্তায় একটি টোটোয় বিকট শব্দে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। তাতে কেঁপে ওঠে প্রায় গোটা এলাকা। বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় টোটো চালকের দেহ। মাথার খুলি উড়ে গিয়ে পড়ে রাস্তার পাশের বাড়ির চালে। হাত, পা টুকরো টুকরো হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে যায়। দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় মৃত চালককে প্রথমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে অবশ্য জানা যায়, মৃত চালক সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রমৌত্তর এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস শেখ।
[আরও পড়ুন: প্রেম প্রস্তাবে ‘না’, মায়ের পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজছাত্রীকে খুন করল যুবক]
এই ঘটনার পর সকলের প্রাথমিক অনুমান ছিল, টোটোর ব্যাটারি বিস্ফোরণ হয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও দুর্ঘটনার ধরন দেখে অনেকে এই অনুমানও করেছিলেন, ব্যাটারিতে এত জোরাল বিস্ফোরণ হয় না। টোটোয় বিস্ফোরক ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন কেউ কেউ। বিস্ফোরণ নিয়ে খোঁজখবর নেয় NIA-ও। জাতীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি তোলেন উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুও। এসটিএফের তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে, বিস্ফোরণের পর কেটে গিয়েছে ৯০ ঘণ্টা। এখনও ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে রক্ত, মাংসপিণ্ড। রবিবার সকালে পিপিই পরা দু’জন ফরেনসিক আধিকারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু পরিমাণ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

তবে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে এখনও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের থেকে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরবর্তীকালে তদন্তের গতিপ্রকৃতি স্থির করা হবে বলেই জানিয়েছেন মালদহ জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া।