রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: ঘুর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রোজই সামনে আসছে। রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। কোথাও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় স্বজনপোষণ তো কোথাও আবার ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ। ত্রাণে কারচুপি তো আছেই। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযোগ আনলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি মঙ্গলবার বলেন, ‘ঝড়ের জন্য তিন আর্থিক বছরে ২০১৩ থেকে ২০১৬, ত্রিপল কেনা নিয়ে ১৬ কোটি দুর্নীতি হয়েছে।’ আমফানে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা উচিত। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। লোক দেখানো শোকজ করা হচ্ছে। অভিযোগ দিলীপের।
এদিন তিনি তৃণমূলের উত্থানের সেই নন্দীগ্রামে ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে বলেছেন, ‘ক্ষতিপূরণ এর অর্থ নিয়ে নন্দীগ্রামে দুর্নীতি হয়েছে। নামখানায় ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছে, যারা নিয়েছিল। যে দুর্নীতি হয়েছে, তা তৃণমূল পার্টি, রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী সকলে জানে। বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে দলের কিছু লোক দুর্নীতি করেছে। বাকিরা সবাই ঠিক আছে।’ আমফানের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তারপর তিনি প্রাথমিকভাবে রাজ্যকে ১০০০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নরেন্দ্র মোদি। পরে কেন্দ্রের তরফে এই টাকা দেওয়া হল রাজ্যকে। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, ‘আমফানের ক্ষতিপূরণ এক হাজার কোটি টাকা কাদের দেওয়া হয়েছে তার তথ্য কোথায়। কোনও তালিকা বিডিও অফিসে টাঙানো হয়নি।’
[আরও পড়ুন: আমফান দুর্নীতিতে এবার কাঠগড়ায় বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত, জনরোষে রণক্ষেত্র গাইঘাটা]
দেশে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যের সর্বত্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে তৃণমূল। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আন্দোলনে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। তাকে কটাক্ষ করে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূলের আবার আন্দোলন। গ্রামে বাড়ি বাড়ি গেলে বুঝে যাবে কত ধানে কত চাল। বাড়ি বাড়ি গেলে মুখে চুন-কালি দেবে মানুষ। বলবে এরা রেশন লুঠ করেছে, আমফানে দুর্নীতি করেছে।’ এদিকে এদিন তাঁর দাবি, ‘করোনাতে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় ভাবে সংক্রমণ হয়েছে। সেটা আটকাতে হবে। জুলাই মাসে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হবে। বিশেষজ্ঞরাই বলেছেন। রাজ্য সরকারকে বলব বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলুন। কলকাতাতে ব্যাপক সংক্রমণ হচ্ছে। আবার হয়তো লকডাউন করতে হবে।’