শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: সকালে বনধ সফল করতে রাস্তায় নেমে ঠাঁই হয়েছিল থানায়। দুপুরে সেখানেই ধৃত বিজেপি কর্মীদের পাতে পড়ল ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত আর খাসির মাংস! কবজি ঢুবিয়ে ভূরিভোজ সারলেন সকলে। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কানাঘুঁষো।
সোমবার সকালে বাড়ির কিছুটা দূর থেকে উদ্ধার হয়েছিল হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক (MLA) দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপি (BJP) অভিযোগ তোলে যে, পরিকল্পনামাফিক তৃণমূলের লোকেরা খুন করেছে ওই বিধায়ককে। তদন্তের দাবিতে সরব হন প্রত্যেকে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে বনধের ডাক দেয় বিজেপি। সেই মতো এদিন সকাল থেকেই বনধ সফল করতে রাস্তায় নামে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন জায়গায় জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করানোর অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সেই সময়ই আটক করে থানায় নিয়ে যায় মহিলা-সহ বেশ কয়েকজন। সেখানে থাকাকালীন বিজেপি কর্মীরা পুলিশ আধিকারিকদের জানায় যে, তাঁদের খিদে পেয়েছে।

[আরও পড়ুন: সাতসকালে আলিপুর জজ কোর্টে আগুন, পুড়ে ছাই পুরনো নথি, ঘটনায় ‘ষড়যন্ত্রে’র গন্ধ]
ব্যস, ধৃতদের থেকে মধ্যহ্নভোজের আবদার পাওয়া মাত্রই আয়োজন শুরু করে পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই থানায় পৌঁছে যায় গরম ভাত-খাসির মাংস। পেটে ভরে খাওয়া-দাওয়া করেন ধৃত বিজেপি কর্মীরা। এপ্রসঙ্গে বিজেপির মজদুর মোর্চার জেলা সভাপতি মানস মুস্তাফি বলেন, “গ্রেপ্তার করে আমাদের থানায় নিয়ে আসার পর জিজ্ঞেস করেছিল কী খাব, আমরাই বলেছি খাসির মাংস-ভাত। সেরকমই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমরা খুশি।” তবে ধৃতদের এভাবে আপ্যায়ণ ভালভাবে নিচ্ছেন না অনেকেই।