সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হু হু করে রাজ্যে বাড়ছে করোনা (Coronavirus) সংক্রমণ। তবে তা সত্ত্বেও এই পরিস্থিতিতে করোনা হাসপাতাল তৈরি এবং ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দেহ দাহ নিয়ে অশান্তি করছেন অনেকেই। এই বিক্ষোভ নিয়ে বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এ প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “আমার বডির মধ্যে চুল্লি বানিয়ে পুড়িয়ে দিন।” এছাড়াও কেন্দ্র রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্যই রাজ্যকে আক্রমণ করছে বলেই দাবি তাঁর।
কেন্দ্রকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কী দিতে পেরেছেন আপনারা? আমরা ভেবেছিলাম ১০ হাজার ভেন্টিলেটর পাবো। ফ্রি ড্রাগস, পিপিই পাবো। খালি হাতে তালি বাজালে হয়ে গেল? কী দিয়েছেন? যা দিয়েছেন। তা দিয়ে মার্চ থেকে এখনও চলে যাবে?” তিনি আরও বলেন, “সামনেই নির্বাচন বলে একটা রাজ্যকে সারাক্ষণ গালি দেওয়া হচ্ছে। এরপর তো এ থেকে জেড নিয়ে আসবেন। সব সময় রাজনীতি করবেন না। বাংলায় যা আছে তাই দিয়ে করোনা সামাল দেবো।”
[আরও পড়ুন: ‘সরকার ম্যাজিশিয়ান নয়, মানিয়ে চলুন’, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বিক্ষোভ নিয়ে মেজাজ হারালেন মমতা
দেশজুড়ে করোনা গ্রাফ যে উর্ধ্বমুখী হবে, তা আগেই আঁচ করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিয়েছে প্রায় প্রতিটি রাজ্য। বাংলাও তার ব্যতিক্রম নয়। বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালকে পুরোপুরি কোভিড হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। কিছু বেসরকারি হাসপাতালও অধিগ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে সেফ হোম। তবে কখনও করোনা হাসপাতাল তৈরি করা নিয়ে আবার কখনও করোনা রোগীর দেহ সৎকার নিয়ে বারবার তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বহু মানুষ। আবার কখনও কখনও করোনা রোগীর দেহ না হওয়া সত্ত্বেও দাহতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় বেশিরভাগ দিনই এমন অভিযোগ সামনে আসে। এই সমস্ত ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “আমার বডির মধ্যে চুল্লি বানিয়ে পুড়িয়ে দিন।” তবে সব কিছুর পরেও বাংলা ঠিক করোনা পরিস্থিতি সামলে নেবে বলেই আশাবাদী রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।