সুব্রত বিশ্বাস: এবার করোনার বলি রেলের চিফ অফিস সুপারিনটেনডেন্ট বিশ্বনাথ নাথ। শিয়ালদহের ‘ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন’ বিভাগের ওএস সাপ্তাহখানেক আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাওড়ার সঞ্জীবনী হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা করা যায়নি। করোনা রবিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ মৃত্যু হয় বিশ্বনাথ নাথের। তাঁর একমাত্র ছেলে স্নাতক স্তরের ছাত্র। রেলের স্কাউট বিভাগের কর্তা ছিলেন তিনি। ট্রেক করতে ভালবাসতেন। খেলাধুলা, শরীরচর্চা নিয়মিত করতেন। কোভিড পজিটিভ হলেও তিনি সেরে উঠবেন, এবিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন সহকর্মীরা। তবুও তাঁকে হার মানতে হল অতিমারীর কাছে।
[আরও পড়ুন: ‘অভিযুক্তের ফাঁসি চাই, নাহলে শেষ দেখে ছাড়ব’, চোপড়া ধর্ষণকাণ্ডে হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার]
রেলকর্মীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে। শিয়ালদহ ডিআরএম অফিসে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় দিন দশেক আগে বিল্ডিংটি সিল করে দেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার আবার দপ্তরটি খোলা হয়েছে। একের পর এক অফিসার আক্রান্ত হওয়ায় বি আর সিং হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়ার্ড তৈরির জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাজ চলছে। মঙ্গলবার কাজ শেষ হলে বুধবারই খুলে যাবে স্টেজ থ্রি চিকিৎসা কেন্দ্র। বি আর সিং হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, আপাতত ক্রিটিক্যাল কেয়ারে থাকবে দশটি বেড। আইসলেশন ওয়ার্ড এ আরো পঁচিশ বেড। প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।
এদিকে, রেলকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছাড়িয়ে পড়ার জন্য কতৃপক্ষকে দায়ী করেছে পূর্ব রেলের মেনস ইউনিয়ন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিত ঘোষ অভিযোগ করেন, তিনটি ওয়ার্কশপ ও লাইনে একশো শতাংশ কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর ফলে সংস্পর্শে সংক্রমণ বাড়ছে। কর্মী কমাতে বলায় কোনওরকম পদক্ষেপ বা করায়, আজ সোমবার সকাল থেকে লিলুয়া ওয়ার্কশপে ওয়ার্কশপ পার্সোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় ইউনিয়ন। সকাল থেকে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ওয়ার্কশপ চত্বর।