বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: ৫ কোটি টাকা ব্যয় করে গঠিত ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট কেন এখনও প্রকাশ করা হল না তা নিয়ে একযোগে প্রশ্ন তুলল বাম ও কংগ্রেস। রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে দু’দলের নেতৃত্ব। পাশাপাশি করোনা ও আমফান আবহে মুখ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে না থেকে শহিদদের সামনে রেখে ভোটের রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেতা অধীর চৌধুরির (Adhir Ranjan Chowdhury)। আমফানের দুর্নীতি নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বামেরা।
ক্ষমতায় এলে কমিশন গঠন করে দোষীদের শাস্তি দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে কমিশন গঠন করলেন। কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়ার চার বছর পরেও তা মানুষের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। উলটে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারাই আজ তৃণমূলের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে বসে রয়েছে। শহিদদের সম্মান জানাতে কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন অধীর চৌধুরি। এদিন ভারচুয়াল সভা থেকে করোনা নিয়ে রাজ্য সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই তথ্যকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে বাম ও কংগ্রেস।
[আরও পড়ুন: অসুস্থ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভরতি আইসিইউতে]
অধীরবাবুর অভিযোগ, রাজ্য সরকার যে তথ্য পরিবেশন করছে তা মিথ্যা। যদি কোভিড রোগীদের জন্য ১৮ হাজার বেড থাকে তাহলে কেন বিনা চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মীরা কেন মারা যাচ্ছেন বলে প্রশ্ন তুললেন অধীর চৌধুরি। শহিদ দিবসের ভারচুয়াল সভা করোনা সংক্রমণ বাড়াতে সাহায্য করবে বলে দাবি করেন অধীরের। তাঁর অভিযোগ, পাড়ায় পাড়ায় জায়েন্ট স্ক্রিন লাগিয়ে বক্তব্য দেখানো হয়েছে। সেখানে কোথাও সামাজিক দুরত্বের বিধিনিষেধ মানা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতায় সুর সপ্তমে চড়িয়েছেন সিপিএমের দুই নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) ও মহম্মদ সেলিম (Md Selim)। সুজনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ১ কোটি ৩৬ লক্ষ কর্মসংস্থানের স্বপক্ষে যে বক্তব্য পেশ করা হয়েছে তা মিথ্যা। রাজে্য ন’বছরে এত কর্মসংস্থান হলে কেন লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যেতে হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুজন। আর ২ কোটি ৩৮ লক্ষ সংখ্যালঘুকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী যে দাবি করেছেন তাও সঠিক নয় বলে দাবি তাঁর। যেখানে রাজ্যে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা আড়াই কোটি সেখানে এত স্কলারশিপ কাকে দিলেন তা নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা। সভা থেকে বিজেপিকে অবিশ্বাস্য পার্টি বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
[আরও পড়ুন: কাদের পরামর্শে রাজ্যে লকডাউনের নতুন সিদ্ধান্ত? সরকারকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন অধীর, সুজন]
এই প্রসঙ্গে সিপিএম পলিব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম জ্যোতি বসুকে টেনে বলেন, “জ্যোতি বসু বারবার বলতেন মমতা খাল কেটে কুমির আনছে। আজ তা সত্য প্রমাণিত। এতদিন শহিদ দিবসের মঞ্চে যাদের দেখা যেত আজ তারা বিজেপির মঞ্চে বসে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে হাত ধরে না আনলে আজ এদিন দেখতে হত না।” দিল্লি যখন করোনার সঙ্গে যুদ্ধে জয়ের পথে এগোচ্ছে তখন এরাজ্যের সরকার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বলে অভিযোগ সেলিমের।