সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: আগস্টের প্রথম লকডাউনের (Lockdown) সকালে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ স্থানীয়দের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন পুলিশ জেলার ঢোলাহাট থানার শিমূলবেড়িয়ায়। ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশকর্মী। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িতেও। এই ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন জেলার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের কিছু মানুষ পাওয়ার হাউসের সামনে মঙ্গলবার জোর করে একটি শিবলিঙ্গ বসিয়ে দেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের অসুবিধা হওয়ায় ওই শিবলিঙ্গ পুলিশ তাঁদের তুলে নিতে বলে। কিন্তু ওই শিবলিঙ্গ তুলে না নেওয়ায় বুধবার সকালে ঢোলাহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখনই গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের গণ্ডগোল বাঁধে। পাঁচ পুলিশকর্মী গ্রামবাসীদের আক্রমণে আহত হন। তাঁদের তিনজনের আঘাত গুরুতর। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দু’টি গাড়িতেও।
[আরও পড়ুন: আগস্টের প্রথম লকডাউনে শুনশান রাস্তাঘাট, মোড়ে মোড়ে নাকা তল্লাশি পুলিশের]
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, যে জায়গায় শিবলিঙ্গটি বসানো হয়েছে সেই জায়গা গ্রামের এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জমি। তাঁর অনুমতিতে ওই জমিতে শিবলিঙ্গ বসানো হয়েছে।তবে মহকুমা শাসক সুকান্ত সাহা গ্রামবাসীদের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ দপ্তরের জায়গাতেই জোর করে ওই শিবলিঙ্গ বসানো হয়েছিল। তাই প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে।” এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে প্রশাসনকে দিয়ে জোর করে বাধা দিচ্ছে শাসকদল। তৃণমূলের পালটা অভিযোগ, ধর্মের দোহাই দিয়ে এভাবেই এলাকা অশান্ত করতে চাইছে বিজেপি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সুন্দরবন পুলিশ জেলার বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।