সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে একটি নির্মীয়মান সেপটিক ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসের জেরে মৃত্যু হল ৬ জনের। রবিবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে দেওঘর (Deoghar) জেলার দেবীপুর থানার অন্তর্গত দেবীপুর বাজারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবীপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা ৫০ বছরের ব্রজেশ চন্দ্র বার্নওয়াল ২০ ফুট গভীর ও ৭ ফুট চওড়া একটি সেপটিক ট্যাঙ্ক (septic tank) বানাচ্ছিলেন। রবিবার ওই ট্যাঙ্কের ভিতরে কাজ করতে নেমেছিলেন লিলু মুর্মু নামে এক শ্রমিক। কিছুক্ষণ পর তিনি উঠে না আসায় ওই ট্যাঙ্ক তৈরির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার গোবিন্দ মাঝি নিচে নামেন। কিন্তু, তাঁরও কোনও সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে বাবার খোঁজে ট্যাঙ্কের ভিতরে নামেন গোবিন্দর দুই ছেলে বাবলু ও লালু। একে একে চারজন নিচে নেমে গেলেও কেউ আর উপরে উঠে আসেনি।
[আরও পড়ুন: কোভিড যুদ্ধে অন্যদের রক্ষা করে নিজে হার মানলেন, করোনা কাড়ল কাশ্মীরি চিকিৎসকের প্রাণ ]
বিষয়টি দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান ব্রজেশ। বেশ কিছুক্ষণ চারজনের নাম ধরে ডাকাডাকি করার পর কোনও সাড়া না পেয়ে তিনিও ওই ট্যাঙ্কের ভিতরে নামেন। ফের ঘটে একই ঘটনা। উপরে একা দাঁড়িয়ে থাকা ব্রজেশের ভাই মিথিলেশ কিছু একটা সমস্যা হয়েছে বুঝতে পেরে দাদার খোঁজে ট্যাঙ্কে প্রবেশ করেন। তাঁকেও আর উঠতে না দেখে টনক নড়ে স্থানীয় মানুষের। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা এসে ওই ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে একে একে ৬ জনের মৃতদেহ বাইরে বের করেন।
এপ্রসঙ্গে দেওঘরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার কমলেশ্বর প্রসাদ সিং বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের নাম ব্রজেশ চন্দ্র বার্নওয়াল (৫০), মিথিলেশ চন্দ্র বার্নওয়াল (৪০), গোবিন্দ মাঝি (৫০), বাবলু মাঝি (৩০), লালু মাঝি (২৫) ও লিলু মুর্মু।