সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রের মোদি সরকারকে দু’বেলা আক্রমণ করাই এখন তাঁর নতুন রুটিন। সেই রুটিনে ছেদ পড়ল না বুধবারও। যথারীতি টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) তীব্র কটাক্ষে বিঁধলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তবে, এবারে খানিকটা অন্য আন্দাজে। মোদিকে আক্রমণ করতে তিনি ব্যবহার করলেন বিজেপিরই স্লোগান। রাহুলকে বলতে শোনা গেল ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।’ অর্থাৎ ‘মোদি থাকলে সবই সম্ভব।’
मोदी है तो मुमकिन है। pic.twitter.com/V1fS7nStIt
Advertisement— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) August 12, 2020
এখন প্রশ্ন হল, কেন একথা বলছেন রাহুল (Rahul Gandhi)? আসলে মোদি সরকারকের আমলে দেশপ্রেম আর জাতিয়তাবাদী আস্ফালনের মধ্যে অর্থনীতিটা খানিকটা উপেক্ষিত। অন্তত বিরোধীরা তাই বলেন। দেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। সম্প্রতি, ইনফোসিস কর্তা এনআর নারায়ণমূর্তিও অর্থনীতির এই অধোগতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন। নারায়ণমূর্তির আশঙ্কা, পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে ১৯৪৭-এর পর অর্থাৎ স্বাধীনতার পর এবারই দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার সর্বনিম্ন হতে চলেছে। ইনফোসিস কর্তার সেই আশঙ্কার সূত্র ধরেই রাহুল এদিন মোদি সরকারকে বিঁধলেন। নারায়ণমূর্তির (N. R. Narayana Murthy) সুরে সুর মিলিয়ে বললেন, মোদি আছে বলেই এটা (স্বাধীনতার পর সর্বনিম্ন জিডিপি বৃদ্ধির হার) সম্ভব। গত প্রায় মাস চারেক ধরেই চিন, করোনা এবং অর্থনীতি ইস্যুতে কেন্দ্রকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছেন রাহুল। তবে, এবারে তিনি হাতিয়ার করলেন বিজেপিরই জনপ্রিয় স্লোগান।
[আরও পড়ুন: ‘বাবার জন্য যেটা ভাল, ঈশ্বর যেন তাই করেন’, আবেগঘন বার্তা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের]
আসলে, করোনা মহামারীর (CoronaVirus) আগে থেকেই ধুঁকছিল ভারতের অর্থনীতি। করোনার মারে একপ্রকার কোমর ভেঙে গিয়েছে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির। মোদি (Narendra Modi) সরকার দু’দফায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেও, বাস্তবের মাটিতে তার সুফল কতটা মিলবে তা নিয়ে সন্দিহান অর্থনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর জন্য মূলত রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী সে অর্থে বিশেষ কোনও কার্যকরী নীতিই গ্রহণ করতে পারেননি। কেন্দ্র যে তথাকথিত প্যাকেজের কথা বলছে, সেটি মুলত ঋণ সর্বস্ব। যার সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। আর সাধারণ মানুষ সরাসরি সুবিধা না পেলে আর যাই হোক অর্থনীতির দৈন্যদশা যে ঘুচবে না। আর ততদিন বিরোধীরাও এভাবেই আক্রমণ শানিয়ে যাবে।