সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১৫ আগস্ট সন্ধে সাড়ে ৭টা। ১৩০ কোটি ভারতবাসীর মন ভেঙে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেই নিয়ে সবেমাত্র আলোচনা শুরু হয়েছে, তারই মধ্যেই জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেন তাঁর এককালের সতীর্থ সুরেশ রায়না।
একসঙ্গে বহু ম্যাচ খেলেছেন দেশের জার্সিতে। দেশকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে রায়না। তরুণ তুর্কিদের ভিড়ে আর কোনও ফরম্যাটেই ঠাঁই হচ্ছিল না দলে। তাই ধোনির সিদ্ধান্তের দিনই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন অলরাউন্ডার। ইনস্টাগ্রামে রায়না ধোনিকে উদ্দেশ করে লেখেন, “তোমার সঙ্গে খেলা খুব উপভোগ করেছি। গর্ব অনুভব করি। এবার তাহলে তোমার পথেই হাঁটি। ভারতকে ধন্যবাদ। জয় হিন্দ।” আসন্ন আইপিএলের জন্য চেন্নাই ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পরই দুই তারকার আন্তর্জাতিক আঙিনা থেকে সরে দাঁড়ানো যেন হজম হচ্ছে না ক্রিকেটপ্রেমীদের।
[আরও পড়ুন: ঠান্ডা মাথার লড়াই শেষ, স্বাধীনতা দিবসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আলবিদা ধোনির]
করোনার আতঙ্ক ভুলে সবে ক্রিকেট ফিরছে। নতুন উদ্দমে তৈরি হচ্ছেন ক্রিকেটার ও দর্শকরা। আইপিএল দেখতে মুখিয়ে অনুরাগীরা। তবে তারই আগে এমন খবর হতাশ ক্রিকেটপ্রেমীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখছেন, ধোনির তো এখনও দেশকে অনেককিছু দেওয়া বাকি ছিল। তবে কে তিনি এত তাড়াতাড়ি সরে দাঁড়ালেন? অনেকে অবশ্য এবার নিশ্চিন্তে ঠান্ডা মাথায় আইপিএল খেলার শুভেচ্ছাও দিয়েছেন ধোনি ও রায়নাকে।
[আরও পড়ুন: IPL-এর মূল স্পনসর হওয়ার দৌড়ে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে টক্কর আরেক ভারতীয় সংস্থার]
২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মাত্র ১৯ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটিয়েছিলেন রায়না। প্রথম টেস্টও খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই। ২২৬টি ওয়ানডে ৫ হাজারেরও বেশি রান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তুলে নিয়েছেন ৩৬টি উইকেটও। বছর দুয়েক আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষবার দেশের হয়ে খেলতে দেখা গিয়েছিল বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানকে। নজরকাড়া পারফর্ম করেছেন টি-টোয়েন্টিতেও। ৭৮ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১,৬০৫ রান। ২০১৮-য় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর থেকে আইপিএলেই খেলেছেন রায়না। এদিনের পর থেকে আর কখনও নীল জার্সিতে ব্যাট ঘোরাতে ঘোরাতে নামতে দেখা যাবে না ২০১১ সালের বিশ্বজয়ী দলের সদস্যকে।