সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সীমান্তে নেই ফৌজি তৎপরতা। নেই কোনও আণবিক হুঙ্কার। যেন ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনকে (Kim Jong Un)। আর পাঁচটা দিনের মতো আমেরিকাকেও হুমকি দিচ্ছেন না তিনি। তাই প্রচণ্ড খামখেয়ালি কোরীয় একনায়কের মতিগতি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা, এহেন পরিস্থিতিতে বুধবার ‘অত্যন্ত জরুরি’ বিষয়ে গোপন বৈঠক ডেকে কার্যত বিশ্বজুড়ে কৌতুহল উসকে দিয়েছেন তিনি।
[আরও পড়ুন: ফের মুখ পুড়ল ইমরানের, পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে দেখাই করলেন না সৌদির যুবরাজ]
উত্তর কোরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা KCNA (Korean Central News Agency) সূত্রের খবর, এদিন একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গোপন বৈঠকে বসছেন কিম। তবে, মূলত কী নিয়ে আলোচনা হবে সে কথা খোলসা না করলেও KCNA জানিয়েছে, কোরীয় বিপ্লবের প্রসার ও দলের লড়াই করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে বৈঠকে আলোচনা হবে। যদিও, এই চিরাচরিত বিষয়ে আলোচনা করতে এতো গোপনীয়তার প্রয়োজন কেন, তা নিয়ে যথারীতি কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি সংবাদ সংস্থাটি।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, করোনা আবহে তীব্র খাদ্য সংকট ও বন্যার মতো পরিস্থিতির জেরে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে পিয়ংইয়ং। অভাবের তাড়না ও রোগের প্রকোপে আম জনতার মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কিম। মার্কিন সরকারের প্রাক্তন বিশ্লেষক তথা উত্তর কোরিয়া (North Korea) বিশেষজ্ঞ র্যাচেল মিনইয়ং লি দাবি করেছেন করোনার মারেই বেকায়দায় পড়েছেন কিম। তিনি বলেন, “উত্তর কোরিয়ার বিদেশনীতির অন্যতম অংশ মিসাইল পরীক্ষা আপাতত স্থগিত। আণবিক অস্ত্রের হুমকিও দিচ্ছেন না কিম। ফলে কিম স্বীকার না করলেও এটা স্পষ্ট যে করোনার মারে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নাগরিকদের জীবযাপনের মানেও।”
উল্লেখ্য, খাদ্য সংকট নিরসনে সম্প্রতি নাগরিকদের পোষা কুকুর সরকারের হতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বৈরাচারী কিম জং উন। ওই সারমেয়দের মাংসেই নাকি হবে উদরপূর্তি। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও করোনা কালে উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাবারের চরম অভাব দেখা দিয়েছে দেশটিতে। পরিস্থিতি যে আগে খুব ভাল ছিল তা নয়, তবে এবার সংকট আরও বেড়েছে। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি মুরগি তথা শূকর পালন ধাক্কা খাওয়ায় দেখা দিয়েছে মাংসের অভাব। তাই দেশের রেস্তরাঁগুলিতে মাংসের জোগান দেওয়ার উদ্দেশ্যে পোষা কুকুর সরকারের হতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কিম।