টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: সদ্যোজাত সন্তানের (Newborn Baby) পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ, স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল বচসার জেরে সন্তানকে কুয়োয় ফেলে খুন করায় অভিযুক্ত দম্পতি। বাঁকুড়ার মানকানালি গ্রামের ঘটনায় আটক করা হয়েছে স্বামী, স্ত্রীকে। কুয়ো থেকে উদ্ধার হয়েছে সদ্যোজাতের দেহ। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় কার্যত স্তব্ধ গ্রামবাসীরা। অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি চাইছেন তাঁরা।
বছর কয়েক আগেই বাঁকুড়ার (Bankura) করণজোড়ার বাসিন্দা আশিস বাউড়ি, গঙ্গাজলঘাটি থানা এলাকার বাসিন্দা রচনাকে ভালবেসে বিয়ে করে। উভয়ের মধ্যে ছোটখাটো অশান্তি হলেও, বড়সড় সমস্যা ছিল না। তবে এই ঘটনার সূত্রপাত সপ্তাহ দুই আগে। গত ৭ আগস্ট বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন বাঁকুড়া সদর থানার মানকানালি গ্রামের রচনা বাউড়ি। পরিবার সূত্রে খবর, সন্তান প্রসবের পরেই স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া নম্বরটি খুঁজে না পেয়ে বেজায় চটে যায় রচনার স্বামী আশিস। তারপরই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে অশান্তি শুরু হয় দম্পতির মধ্যে। এসবের মধ্যেই গত ১৬ আগস্ট ওই সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে এলেও অশান্তি অব্যাহত ছিল।
[আরও পড়ুন: ‘বিশ্বকবির আশ্রম কুস্তির আখড়ায় পরিণত হয়েছে’, বিশ্বভারতীকাণ্ডে খোলা চিঠি বিশিষ্টদের]
আশিসের বাবা কার্তিক বাউরি জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় ওই সদ্যোজাত সন্তান। তাতেই সন্দেহ হয় তাঁর। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পিছনে ছেলে ও বৌমার হাত আছে, এই সন্দেহে তিনি তাদের বিরুদ্ধে বাঁকুড়া সদর থানায় অভিযোগ জানান। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই আশিষ ও তার স্ত্রী রচনাকে আটক করে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের করার পরেই পুলিশ জানতে পারে, বাড়ির কুয়োর মধ্যেই ওই সদ্যোজাত পুত্রসন্তানকে ফেলে খুন করেছে তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা কুয়ো থেকে উদ্ধার হয় সদ্যজাত সন্তানের দেহ। ঘটনায় হতবাক করণজোড়া গ্রামের বাসিন্দারা।