সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: যত এগিয়ে আসছে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন, ততই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বাড়ছে তৎপরতা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এতদিনে সব দলই যে পথসভা, মিছিল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচারের কাজ শুরু করে দিত তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কোভিড-১৯-এর (COVID-19) প্রকোপে জনজীবন ব্যাহত। সেই কারণে সভা-মিছিল করা যাচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতির দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ও বিজেপি (BJP) মন দিয়েছে ডিজিটাল প্রচারের (Digital campaign) দিকে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে দুই দলই। গত তিন মাসে রাজ্যের শাসক দল প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করেছে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাবদ। পিছিয়ে নেই গেরুয়া বাহিনীও। তারাও বিপুল অর্থ খরচ করেছে ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের জন্য। ফেসবুকের ‘অ্যাডভার্টাইজমেন্ট লাইব্রেরি’-র রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, গত ২৪ জুন থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস ১৮ লক্ষ ১০ হাজার টাকা খরচ করে ৯৩টি বিজ্ঞাপন দিয়েছে। বিজেপির ক্ষেত্রের খরচের অঙ্ক ১২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তারা এই সময়কালের মধ্যে ৫২টি বিজ্ঞাপন দিয়েছে।
[আরও পড়ুন: পুজোর মুখে টানা তিনদিন ট্রাক ধর্মঘটের ডাক, বাড়তে পারে জিনিসপত্রের দাম!]
তিন মাসের হিসেবে বিজেপি পিছিয়ে থাকলেও, শেষ একমাসে ছবিটা একদমই বদলে গিয়েছে। গত এক মাসের হিসেবে বিজেপি অনেক এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূলের থেকে। ২৩ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমায় ২৬টি বিজ্ঞাপন বাবদ বিজেপি খরচ করেছে ১০ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তৃণমূলের খরচ সেখানে অনেকটা কম, ৩.৩৫ লক্ষ টাকা। তারা বিজ্ঞাপন দিয়েছে ৪২টি। অর্থাৎ রাজ্যের ভোটপ্রচারে বিজেপি ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাবদ যা খরচ করেছে, তার ৮৫ শতাংশই করেছে এই মাসে। অনুমান করা হচ্ছে ভোট এগিয়ে আসায় এবার বিজ্ঞাপনের উপরে জোর দেওয়া বাড়াতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
[আরও পড়ুন: ফলপ্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পরই ক্লাস শুরুর নির্দেশ ‘হাস্যকর’, দাবি রাজ্যের অধ্যাপকদের]
তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় এপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘বিজেপি দেশের সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছে। সেই টাকায় তারা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। যেহেতু তারা মিথ্যে ছড়াতে চায়, তাই তাদের বিজ্ঞাপন বাড়বেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কাজ করে। আমাদের কাজ আমাদের হয়ে কথা বলবে। মানুষ দেখে নিয়েছে বিজেপি কতটা ক্ষতি পারতে পারে।’’
এদিকে বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানাচ্ছেন, ‘‘অতিমারীর সময়ে যখন অন্য সব পথ বন্ধ, তখন সোশ্যাল মিডিয়াই মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মানুষের কাছে পৌঁছতে যেটাই সাহায্য করবে বিজেপি সেটা করবে।’’