সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় এক দশক এদেশে ব্যবসা করার পর পাততাড়ি গুটিয়ে ভারত ছাড়ল মার্কিন মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারী সংস্থা হার্লে ডেভিডসন। এর ফলে কিছুটা হলে প্রভাব পড়তে পারে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে। কারণ এর আগেও বেশ কয়েকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে হার্লে বাইকের আমদানির উপর ‘অন্যায্য’ শুল্ক প্রত্যাহারের আরজি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
[আরও পড়ুন: ব্যবহৃত কন্ডোম ধুয়ে ফের বাজারে বিক্রি, আজব জালিয়াতিতে হতবাক পুলিশ]
এক বিবৃতিতে হার্লে ডেভিডসন জানিয়েছে, হরিয়ানার বাওয়ালে সংস্থাটির একমাত্র কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া, গুরুগ্রামে সেলস অফিসটির কাজ কমিয়ে এনে সেটিকে আকারে আরও ছোট করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে বাকি পদক্ষেপের বিষয়ে এদেশের গ্রাহকদের জানানো হবে।
ভারতে প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছে হার্লে ডেভিডসন। এদেশে সংস্থাটির একটি কারখানা ও ৩৩টি শোরুম রয়েছে। সংস্থাটি এদেশে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার ফলে এবার ওই শোরুমগুলিও বন্ধের মুখে বলে খবর। এর ফলে কাজ হারাতে চলেছেন প্রায় ৭০ জন কর্মী। যদিও বিগত কয়েকমাস ধরেই কর্মী ছাঁটাই করছিল সংস্থাটি। সূত্রের খবর, আশানুরূপ বিক্রি না হওয়া ও ‘অতিরিক্ত’ করের বোঝার দরুন ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছিল সংস্থাটির। ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ হলেও চড়া দামের জন্য ভারতীয় গ্রাহকদের সেই অর্থে কাছে টানতে পারেনি সংস্থাটি। তাই এদেশে ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, গতবছর হার্লে ডেভিডসনের উপর শুল্ক নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তারপর আমেরিকা থেকে আমদানি করা মোটর সাইকেলের ওপর শুল্ক কমিয়ে অর্ধেক করেছে ভারত। আগে একশো শতাংশ শুল্ক নেওয়া হত। এখন নেওয়া হচ্ছে ৫০ শতাংশ। কিন্তু তাতেও খুশি নন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ভারতে মার্কিন মোটর সাইকেলের উপর যে শুল্ক বসানো হয়, তার হার এখনও বেশ চড়া। ফলে এদেশে থেকে হার্লে চলে যাওয়ায় আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা হলে প্রভাবিত হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।