সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তে দোষ প্রমাণ হওয়ার পর অভিযুক্ত দুই চিকিৎসককে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পুনে (Pune)-তে। সাজাপ্রাপ্ত হল ডা. জিতেন্দ্র সুরেশ শিম্পি ও ডা. সচিন হরি দেশপান্ডে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২ বছরের যুবতী রাজশ্রী জগতাপ আড়াই বছরের শিশুকন্যা ও স্বামী অনিল জগন্নাথ জগতাপের সঙ্গে পুনের সিনহাগাদ (Sinhagad) রোড এলাকায় বসবাস করতেন। ২০১২ সালে ফের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন রাজশ্রী। সেসময় চিকিৎসার জন্য তাঁর স্বামী পেশায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক অনিল ওই যুবতীকে আদর্শনগরে অবস্থিত জিতেন্দ্র ও তাঁর অনুপমা জিতেন্দ্র সিম্পির হাসপাতালে নিয়ে যান। জুন মাসের এক তারিখে জিতেন্দ্র সিম্পি ও অ্যানেস্থেসিয়াটিস্ট বিজয় আগরওয়ালের উপস্থিতিতে রাজশ্রীর সিজার করেন চিকিৎসক সচিন হরি দেশপাণ্ডে। পরে ওই যুবতীর লাইগেশনও করেন। সন্ধেবেলা আচমকা প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হতে থাকে ওই যুবতীর। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নিজের গাড়িতে করে তাঁকে দেহুরোড (Dehuroad) এলাকার আধার হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভরতি করেন ডা. দেশপান্ডে। পরের দিন অর্থাৎ জুনের দু তারিখ সেখানেই মৃত্যু হয় রাজশ্রীর।
[আরও পড়ুন: আনলক ৫-এর নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের, খুলছে সিনেমা হল, ছাড় এই ক্ষেত্রগুলিতেও ]
এই ঘটনার পরেই দেহুরোড থানায় ডা. জিতেন্দ্র, ডা. সচিন ও ডা. বিজয়ের নামে অভিযোগ দায়ের করেন রাজশ্রীর স্বামী অনিল। দীর্ঘ আট বছর ধরে সেই মামলার শুনানি চলার পর গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত জিতেন্দ্র ও সচিনকে ১০ বছরের জন্য কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত সেশন জন ভি আর জগদালে। পাশাপাশি উভয়কে আড়াই লক্ষ টাকা করে মোট পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজশ্রীর স্বামীকে। তবে এই মামলার আরেক অভিযুক্ত ডা. বিজয় আগরওয়ালকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।