সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের ঘটনা নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। ঠিক এই সময়েই রাজস্থানের আলোয়ারে গত বছর ঘটে যাওয়া একটি গণধর্ষণ মামলার রায় দিল আদালত। চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ওই গণধর্ষণ (gangrape) -এর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করার জন্য পাঁচ বছরের জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে আরেক অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক।
Rajasthan: Four accused sentenced to life imprisonment and one awarded 5 years in prison by a court in Alwar, in Thanagazi gangrape case of 2019. https://t.co/5aqsgBqM9L
Advertisement— ANI (@ANI) October 6, 2020
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাজস্থানের আলোয়ার (Alwar) -এর থানাগাজি এলাকায় দলিত সম্প্রদায়ের ২২ বছরের এক যুবতীকে তাঁর স্বামীর সামনেই ধর্ষণ করে একজন নাবালক-সহ পাঁচজন। আর আরেকজন ব্যক্তি সেই পাশবিক ঘটনার ভিডিও তোলে। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নির্যাতিতার কাছ থেকে ১০ হাজার দাবিও করে। নির্যাতিতা তা দিতে রাজি না হওয়া ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টও করে দেয়। এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানাতে গেলে তারা এফআইআর নিতে চায়নি। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতে ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল না হওয়ার আগে পর্যন্ত তদন্তও শুরু করেনি। পরে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি সরকারের তীব্র সমালোচনা করতে শুরু করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মে মাসের ২ তারিখে এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। আর ১৮ মে আদালতে চার্জশিট জমা করে পুলিশ। তদন্ত চলার মাঝেই কর্তব্যে গাফিলাতির অভিযোগে আলোয়ার পুলিশ সুপার রাজীব পাছারকে সরিয়ে দেওয়া হয় ও থানাগাজি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সর্দার সিংকে বরখাস্ত করে রাজ্য প্রশাসন।
[আরও পড়ুন: ‘অশান্তির ছক বিরোধীদের, হাথরাসের তরুণীর ধর্ষণই হয়নি’, সুপ্রিম কোর্টে জানাল যোগী সরকার ]
পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্ত ছোটে লাল (২২), হংসরাজ গুজ্জর (২০), অশোক কুমার গুজ্জর (২০) এবং ইন্দ্রজিৎ সিং গুজ্জর (২২)-এর নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭,১৪৯, ৩২৩, ৩২৭ ও ৩৭৬ডি-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মঙ্গলবার আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনার ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার জন্য আরেক অভিযুক্তকে পাঁচ বছরের জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে।