সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘হেমলক সোসাইটি’-র কথা মনে আছে? বেঁচে থাকার ইচ্ছে হারিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল একটি সংস্থা। কিন্তু জানেন কি বাস্তবেও সেরকমই একটি সংস্থার অস্তিত্ব রয়েছে? তবে এরা দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত মানুষকে মরতে নয়, যেসব মানুষরা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত তাঁদের সাহায্য করে থাকে। এই পদ্ধতিটিকেই বলা হয় ‘প্যালিয়াটিভ কেয়ার’। মৃত্যুর আগে একজন রোগীকে তাঁর ব্যথা থেকে মুক্তি দিতেই এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়। ওষুধের সাহায্যে প্রথমে তাঁর ব্যথা কমানো হয় এবং মানসিকভাবে সেই রোগের সঙ্গে লড়াই করার জন্য উদ্বুদ্ধও করা হয়। এর জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের সাহায্য নেওয়া হয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এইভাবে মানুষের সেবা করে চলেছে কেরালার ‘পাল্লিয়াম ইন্ডিয়া।’ মৃত্যুর আগে মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দেওয়াই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য।
নয়া নিয়ম SBI-এর, টাকা জমা দিলেও এবার দিতে হবে বাড়তি চার্জ
সংস্থার প্রধান ডাঃ এম আর রাজাগোপাল এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের সংস্থা ‘পাল্লিয়াম ইন্ডিয়া’র কথা জানিয়েছেন। শুধু ওষুধের সাহায্যে রোগীর ব্যথা কমানোই নয়, ‘পাল্লিয়াম ইন্ডিয়া’-র সদস্যরা তাঁদের পরিবারের লোকজনের দিকেও আলাদা নজর দেন। রাজাগোপাল বলেন, ‘এখনকার দিনে শুধু রোগের ওপরেই নজর দেওয়া হয়। আমরা রোগী এবং তাঁর পরিবারের দিকেও নজর দিয়ে থাকি। আমরা মনে করি রোগের নিরাময় গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রোগী এবং তাঁর পরিবার।’ এখনও পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন শহরে সংস্থার তরফে ‘পাল্লিয়াম ইন্ডিয়া’-র পক্ষ থেকে প্যালিয়াটিভ কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে। যেমন দেরাদুন, লখনউ, পাটনা, শিলং, আগরতলা, নাগপুর, পন্ডিচেরি, জামনগর এবং আরও অনেক জায়গার নাম রয়েছে সেই তালিকায়। পাশাপাশি ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা একটি বিলের সুবাদে ব্যথা কমানোর বিভিন্ন ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এখন অনেক কম মাত্রায় আনতে পারা যায়। আর সেকারণেই এখন এই ধরণের চিকিৎসা আরও দ্রুত মাত্রায় ভারতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজাগোপাল আরও জানান, যেসব পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারে না তাঁদের জন্য বিনামূল্যে সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়। এমনকী কিছু কিছু পরিবারকে খাবারও সরবরাহ করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের শিশুদেরও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি জানান, ত্রিবান্দমে মোট ৩২৯ জন শিশুর পড়াশুনার খরচ চালায় ওই সংস্থা। ইতিমধ্যে তাঁরা এই নিয়ে চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কথাও বলেছেন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা না জাগালে আমরা এগোতে পারব না। এমনটাই মনে করেন রাজাগোপাল।
জানেন, দেশের কোন শহরে প্রথম পড়ে সূর্যের আলো?
কিন্তু কীভাবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি তাঁর মাথায় এল? এর উত্তরে রাজাগোপাল বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগে অ্যানাসথেটিস্ট হিসেবে কালিকূট কলেজ হাসপাতালে চাকরি করছিলাম তিনি। তখনই জিহ্বার ক্যান্সার নিয়ে ৪২ বছর বয়সি এক অধ্যাপক আমার কাছে আসে। কিন্তু তখনও তিনি জানতেন না সেই রোগ আর সারবে না। আমি তাঁকে ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়াই আর বলি আপনাকে আর আসতে হবে না। এরপরেই তিনি পুরো ব্যাপারটি বুঝতে পারেন। আমি ভেবেছিলাম তিনি হয়ত খুশি হবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাড়ি গিয়েই আত্মহত্যা করেন ওই ব্যক্তি।’ রাজাগোপাল জানান, এই ঘটনাটি ছাড়াও এরকম আরও দু’টি ঘটনা, যার মধ্যে একটি চাকরিরত অবস্থায় আর অপরটি পড়াশুনার সময়ে তাঁর সঙ্গে ঘটেছিল। আর এই সবকিছুই তাঁকে ভারতে ‘পাল্লিয়াম ইন্ডিয়া’ তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।