সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে আছড়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। ভোলবদল করে আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে ভাইরাসটি। এবার এই আণুবীক্ষণিক জীবের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বিহারের প্রাক্তন ‘বাহুবলি’ সাংসদ মহম্মদ সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin) বলে টুইট করে জানায় সংবাদ সংস্থা এএনআই। পরে সেই টুইট মুছে দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায় যে পরিবার ও দলীয় সূত্রে তারা খবরটি জানতে পেরেছিল। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন কোনও ঘোষণা হয়নি। তারপরই তিহার জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনায় সাহাবুদ্দিনের মৃত্যু হয়নি। এই খবর ভুয়ো।যদিও শেষমেশ জানা গিয়েছে যে, করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাহাবুদ্দিন।৫৩ বছরের এই ‘বাহুবলি’ নেতার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে, দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতাল। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
[আরও পড়ুন: শত্রুতা ভুলে করোনা মোকাবিলায় পণ্য সরবরাহ বজায় রাখতে রাজি ভারত-চিন]
Former RJD MP Mohammad Shahabuddin passes away at a hospital in Delhi where he was under treatment for #COVID19.
Advertisement(File photo) pic.twitter.com/bE0b8pd6ge
— ANI (@ANI) May 1, 2021
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছিল, গত মঙ্গলবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন সাহাবুদ্দিন। তারপর থেকে রাজধানী দিল্লির একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি বলে হাসপাতাল জানিয়েছিল। অবশেষে চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন লালু প্রসাদ জাদবের পার্টি রাষ্ট্রীয় জনতা দলের এই প্রাক্তন সাংসদ। উল্লেখ্য, রাজনীতিবিদের চাইতেও বাহুবলি হিসেবেই বেশি পরিচিত সাহাবুদ্দিন। বিহারের সিওয়ান জেলায় লালুপ্রসাদ জাদবের আমলে তাঁর দাপটে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত বলে দাবি। বেশ কয়েকটি দুর্নীতি, খুন ও অপহরণের মামলা রয়েছে ওই প্রাক্তন সাংসদের নামে। বর্তমানে একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে দিল্লির তিহার জেলে সাজা ভোগ করছেন তিনি। কিন্তু ওই হাই সিকিউরিটি কারগারেও থাবা বসিয়েছে করোনা। মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক বন্দি। গত বুধবার সাহাবুদ্দিনের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য কেজরিওয়াল সরকারকে নির্দেশ দেয় দিল্লি হাই কোর্ট।
উল্লেখ্য, করোনার (CoronaVirus) দ্বিতীয় ধাক্কায় নাজেহাল দেশ। প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। গত ৯ দিন পরপর দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষের বেশি! যা কিনা বিশ্বরেকর্ড। মারণ ভাইরাসের এই দাপাদাপি যে কোনও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ধরাতে বাধ্য। কিন্তু কেন্দ্রের এক উপদেষ্টা কমিটি বলছে, এখানেই শেষ নয়। আগামী সপ্তাহে আরও ভয়াবহ হবে দেশের করোনা পরিস্থিতি। বস্তুত ওই কমিটি মনে করছে, দেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হতে চলেছে আগামী সপ্তাহেই। দেশের করোনা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে, এবং সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গড়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সেই কমিটি জানিয়েছে, মে মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে দেশের করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হবে। দিন কয়েক আগে ওই উপদেষ্টা কমিটিই জানিয়েছিল, আগামী ৫ থেকে ১০ মে’র মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হবে দেশের পরিস্থিতি। কিন্তু কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ভাইরাসটি তাঁদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত ছড়িয়েছে।